দেশের তরুণ প্রজন্মকে সত্য, ন্যায় এবং মানবিকতার পক্ষে দৃঢ়ভাবে সোচ্চার থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ বুধবার শারদীয় দুর্গাপূজা ও বিজয়া দশমী উপলক্ষে বঙ্গভবনের দরবার হলে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি সতর্ক করে বলেন, মাঝে মাঝে গুজব, অপপ্রচার এবং ধর্মীয় উগ্রতাকে কাজে লাগিয়ে সমাজে বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টা চালানো হয়। রাষ্ট্রপতির মতে, এই ধরনের সব অপচেষ্টার বিরুদ্ধে অত্যন্ত দৃঢ় ও আপসহীন অবস্থান নিতে হবে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের দায়িত্ব হলো সত্য, ন্যায় ও মানবিকতার পক্ষে কথা বলা এবং সোচ্চার থাকা।
জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতির গুরুত্ব তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এ দেশ আমাদের সবার। সবাই মিলে দেশকে গড়তে হবে। কোনো অপশক্তিকে বিভেদ সৃষ্টি করে জাতীয় ঐক্য ও অগ্রগতি বিনষ্ট করতে দেওয়া যাবে না।’
রাষ্ট্রপতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের ওপর ভিত্তি করে একটি নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে আহ্বান জানান।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শুভেচ্ছা ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বিশ্বের নানা প্রান্তে যখন যুদ্ধ, সহিংসতা ও সাম্প্রদায়িক হানাহানি চলছে, তখন এখানে সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে নিজ নিজ উৎসব পালন করছে—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন। এ সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অস্তিত্ব। যেকোনো মূল্যে তা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।’
জাতীয় ঐক্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ সব গণতান্ত্রিক সংগ্রাম এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণই এই দেশের জাতীয় ঐক্যের মূল ভিত্তি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে রাষ্ট্রপতি দরবার হলে উপস্থিত হলে ‘হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট’, ‘বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট’, ‘বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ’ এবং ‘মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির’ পক্ষ থেকে তাঁকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বঙ্গভবনে আগত সকল অতিথি ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন রাষ্ট্রপতি। এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগম উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া অনুষ্ঠানে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন, প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।