ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়ে সহিষ্ণু মনোভাব রাষ্ট্রীয় ঐক্যকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করেন আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁর মতে, যারা ধর্মকে কেন্দ্র করে বিভেদ তৈরি করে, তারা মূলত দেশ ও জাতির শত্রু। কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির পক্ষেই ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করা কিংবা উত্তেজনা সৃষ্টিকারী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দেওয়া সমীচীন নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফেনী জেলার বিভিন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা মণ্ডপ পরিদর্শনের সময় মজিবুর রহমান মঞ্জু এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘ধর্ম যার, উৎসব তার, রাষ্ট্র সবার’—এই মূলনীতি মেনে সবাইকে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে হবে। আমরা যে ধর্মেরই অনুসারী হই না কেন, বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সবার অধিকার সমান। রাজনৈতিকভাবেও কারও অধিকারে তারতম্য নেই। রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নাগরিকদের সেই অধিকার সমুন্নত রাখা।’
তিনি আরও বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের কর্তৃত্ব ও প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করে। ক্ষমতাকেন্দ্রিক কর্তৃত্বের সংঘাতে কখনো কখনো ধর্মীয় পরিচয় ব্যবহার করে বিভেদ তৈরি করা হয়। প্রকৃত ধার্মিকেরা হিংসা-হানাহানি কিংবা অন্যকে হেয় প্রতিপন্ন করাকে সমর্থন করতে পারেন না।
এরপর তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে শহরতলির কুমিরা পূজামণ্ডপ, উত্তর খানেবাড়ি দুর্গা-কালী মন্দির, মাস্টারপাড়া গুরুদাস চক্র মন্দির, কালীবাড়ি মন্দির ও জগন্নাথবাড়ি মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এই সময়ে তিনি মন্দিরে আগত ভক্তদের সাথে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন এবং পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি ও আয়োজকদের সাথে কথা বলেন।
এ সময় এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সহকারী প্রবাসীকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক নুর নবী নয়ন, ফেনী জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহছান উল্যাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফলাতুন বাকি, ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন আনসারী, যুগ্ম সদস্যসচিব নজরুল ইসলাম কামরুল, সদর উপজেলা আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন, সদস্যসচিব আবু সাইদ খান, এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শফিউল্যাহ পারভেজ, সদস্যসচিব এস এম ইব্রাহিম সোহাগসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও পূজামণ্ডপের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।