ক্ষমতায় আসার পর সাধারণ মানুষের মৌলিক সমস্যাগুলো সমাধানে ব্যর্থ হয়েছে বর্তমান সরকার বলে অভিযোগ করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁর মতে, সরকার দাবি করেছিল তাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে, তবে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। তিনি মনে করেন, সরকারের প্রকৃত পরিকল্পনা হলো পর্যায়ক্রমে সবকিছুর দাম বাড়িয়ে জনগণকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দেওয়া।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিজয়নগরে অবস্থিত এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এবি স্বেচ্ছাসেবক পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম দফায় দফায় বাড়ছে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বেড়েছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বেড়েছে, একই সঙ্গে বেড়েছে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়।” এর ফলে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিদিন ক্ষোভ ও হতাশার পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “গত ৫৪ বছর ধরে দেশে গতানুগতিক রাজনীতি চলছে। এত রাজনৈতিক দল, বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য কী? নিশ্চয়ই রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন আনা। কিন্তু এত আয়োজনের পরও আমরা কেন রাষ্ট্রকে ঠিক করতে পারছি না? রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক পরিচয় ও বোঝাপড়ার অভাবে সামান্য বিষয়েও অবিশ্বাস ও দূরত্ব তৈরি হচ্ছে।”

জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “মানুষ তখনই সাড়া দেয়, যখন রাজনীতির সঙ্গে নিজের স্বার্থ ও অধিকারকে সম্পৃক্ত দেখতে পায়। তাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে স্বেচ্ছাসেবক পার্টিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারলে আমরা কী করতে পারি, সেই স্বপ্ন ও সম্ভাবনার কথা মানুষের সামনে তুলে ধরতে হবে।”

প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সমালোচনা করে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “আওয়ামী লীগ নানা আশ্বাস দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বিএনপিও এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পারছে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনীতি কেবল প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি হওয়া উচিত নয়, বরং জনগণের বাস্তব সমস্যা সমাধানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাই হওয়া উচিত রাজনীতির মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য প্রদান করেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, প্রবাসী কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাজা, এবি যুব পার্টির সদস্য সচিব হাদীউজ্জামান খোকন, কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সহকারী দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হালিম নান্নু, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল মান্নান, যুগ্ম সদস্য সচিব রাশিদা আক্তার মিতু, মিজানুর রহমান মিঠু এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য খোরশেদ আলম পলাশ।

এছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মোহসীনুল হক চৌধুরী, নারী উন্নয়ন বিষয়ক সহ সম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থান বিষয়ক সহ সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, গাজীপুর মহানগর সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার, নাটোর জেলা আহ্বায়ক মোকাররেবুর রহমান নাসিম, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুর রহমান মিজান, ডাক্তার শাহ মাহমুদুল বারী রাকিব এবং কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মনির হোসেন ও জাবের হোসেন সুমন।