ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নেকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীর প্রতি শিক্ষকের আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগ উঠেছে। এই স্পর্শকাতর ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র প্রতিবাদ ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। তাঁর মতে, ঢাবিতে নেকাব পরা শিক্ষার্থীকে অপমান করা মূলত ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতারই বহিঃপ্রকাশ।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমের উদ্দেশ্যে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তিনি এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন। মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, “একজন মুসলিম শিক্ষার্থীকে তার ধর্মীয় পোশাকের কারণে অপমান করা শুধু ব্যক্তিগত মর্যাদার ওপর আঘাত নয়, এটি মুসলিম সমাজের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি অবমাননা।”
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে ধর্মীয় পোশাককে ছোট করার প্রবণতার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “শিক্ষাঙ্গনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে যদি নেকাব, হিজাব বা ইসলামি পোশাককে বিদ্রূপ করা হয়, তাহলে সেটি নিছক মতপ্রকাশ নয়, এর মধ্যে ইসলামবিদ্বেষী মানসিকতার প্রকাশ আছে। একজন শিক্ষকের দায়িত্বশীল অবস্থানকে ব্যবহার করে কোনো শিক্ষার্থীকে ‘সন্ত্রাসী’ বা ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা হলে সেটি আরও গুরুতর বিষয়।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তথাকথিত আধুনিকতার দোহাই দিয়ে ইসলামি পোশাককে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা একটি সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি। মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, “নিজেদের তথাকথিত আধুনিকতাকে শ্রেষ্ঠ প্রমাণ করতে গিয়ে ইসলামি পোশাককে পশ্চাৎপদতা, মৌলবাদ বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত করা মূলত এক ধরনের সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ।”
তাঁর মতে, পোশাকের ভিত্তিতে মানুষকে বিচার করার এই দ্বৈত মানদণ্ড কোনোভাবেই মুক্তবুদ্ধির পরিচয় হতে পারে না। তিনি বলেন, “ইসলামি পোশাক দেখলেই ‘সন্ত্রাসী’ আর অশালীনতাকে দেখলেই ‘আধুনিক’- এই দ্বৈত মানদণ্ড কোনো মুক্তবুদ্ধির পরিচয় নয়। বরং এ ধরনের মানসিকতা ব্যক্তি-স্বাধীনতার নামে ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সংকুচিত করার একটি বিপজ্জনক প্রবণতা।”
ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তাঁর দাবি, “শুধু কোর্স পরিবর্তন বা সাময়িক প্রশাসনিক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়।” একই সাথে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তদন্ত প্রক্রিয়া চলাকালীন অভিযোগকারী শিক্ষার্থী যেন কোনো প্রকার একাডেমিক বা প্রশাসনিক হয়রানির সম্মুখীন না হন, তা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।
পুরো ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের আহ্বান জানিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বাংলাদেশের মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস, পোশাক ও মর্যাদাকে অবজ্ঞা করার অধিকার কারও নেই। নেকাব পরা, ইসলাম পালন করা এবং ধর্মীয় পরিচয় কোনো অপরাধের প্রমাণ নয়।”