নোয়াখালীর সদর উপজেলায় চুরির অভিযোগে মো. কবির হোসেন (৩৫) নামের এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস ঘটনার পর তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর গ্রামের বেলালের দোকানের সামনে থেকে কবির হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। জানা গেছে, একই দিন বিকেল ৪টার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, আহত কবিরকে একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ভিডিওতে তাকে টাকা চুরির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। মঙ্গলবার বিকেলে ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জানাজানি হয়।

নিহত কবির হোসেন নোয়াখালীর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার গাইনেগো বাড়ির বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিনি একজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ছিলেন।

ঘটনার সূত্র ধরে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (১২ অক্টোবর) নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। চুরির ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে তিনি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সহায়তা চেয়েছিলেন। এরপর মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবিরকে শনাক্ত ও আটকের কথা জানান। খবর পেয়ে হোসেন তার লোকজন নিয়ে সেখানে পৌঁছান এবং কবিরকে মারধর করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার থেকে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায়। সেখানেই তার মৃত্যু ঘটে। পরবর্তীতে বেলালের দোকানের সামনে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় মরদেহটি উদ্ধার করে।

সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম এই ঘটনার বিষয়ে বলেন, ‘চুরির অভিযোগে ওই যুবককে মারধর করলে তার মৃত্যু হয়। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ৩-৪ জনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।