নোয়াখালী সদর উপজেলায় কামাল উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে নির্মমভাবে পিটুনির পর ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের সাবেক স্ত্রী ও শাশুড়িকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের দুর্গানগর গ্রাম থেকে কামাল উদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত কামাল উদ্দিন সুবর্ণচর উপজেলার চরজব্বার ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরমাজীর এরশাদ কলোনির মৃত ওহিদুর রহমানের ছেলে বলে জানা গেছে। পুলিশের হাতে আটক হওয়া তাঁর সাবেক স্ত্রীর নাম তানিয়া আক্তার (৩০)। এছাড়া আটক করা হয়েছে তানিয়া আক্তারের মা কবরী বেগমকে (৫০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, পারিবারিক বিবাদের কারণে প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে কামাল উদ্দিন ও তানিয়া আক্তারের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছিল। তাঁদের ১১ বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। তবে বিবাহবিচ্ছেদের পরও কামাল উদ্দিন সাবেক স্ত্রী তানিয়া আক্তারের বাড়ির আশেপাশে ঘোরাফেরা করতেন এবং তাঁকে বিরক্ত করে আসছিলেন। গত কয়েক দিন ধরে তিনি পূর্ব দুর্গানগর এলাকার একটি মাদ্রাসার বারান্দায় রাত যাপন করছিলেন বলে জানা গেছে।

গত শনিবার রাতে তানিয়ার বাবা আমির হোসেনকে (৬০) ওই মাদ্রাসার মাঠে একা পেয়ে মারধর করেন কামাল উদ্দিন। এই অতর্কিত হামলায় আমির হোসেনের মাথা ও হাতে গুরুতর আঘাত লাগে। এই ঘটনায় তানিয়া ও তাঁর ভাই মোহাম্মদ আকাশ (২২) অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। গতকাল রাতে আকাশ তাঁর কর্মস্থল ঢাকা থেকে বাড়িতে ফেরার পর তিনি, তানিয়া আক্তার ও কবরী বেগম মিলে কামাল উদ্দিনকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে একটি পুকুরপাড়ে ঘুমন্ত অবস্থায় কামাল উদ্দিনকে খুঁজে পাওয়া যায় এবং তাঁরা তাঁকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন। এই ঘটনায় মোহাম্মদ ফোরকান নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দাও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বলে জানা গেছে। মারধরের একপর্যায়ে ধারালো ছুরি দিয়ে কামাল উদ্দিনের মাথায়, বুকে, হাতে ও পিঠে আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদরের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি, রক্তমাখা বালু, মুঠোফোনসহ বেশ কিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা মো. ইদ্রিস আরও বলেন, ‘ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে তানিয়া আক্তার ও তাঁর মা কবরী বেগমকে আটক করা হয়েছে। মোহাম্মদ আকাশ, ফোরকানসহ অন্যদের আটক করতে অভিযান চলমান। নিহত কামাল উদ্দিনের পরিবারের অভিযোগের আলোকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’