নোয়াখালীতে টাকা চুরির অভিযোগে এক যুবককে নির্মমভাবে মারধর করে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ঘটনার মাত্র কয়েক ঘণ্টা পর পুলিশ ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে। আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকার একটি দোকানের সামনে থেকে মো. কবির (৩৫) নামের ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ৮ মিনিট ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কবিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছে। ভিডিওটিতে তাঁকে টাকা চুরির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে দেখা যায়। মঙ্গলবার বিকেলে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে এই ভিডিওটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সোমবার নোয়াখালী শহরের সোনাপুর পেট্রলপাম্প-সংলগ্ন হাসিব ওয়ার্কশপ থেকে টাকাভর্তি একটি ব্যাগ চুরি হয়। ওই ব্যাগে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিল বলে দাবি করেছেন ওয়ার্কশপের মালিক মো. হোসেন। চুরির ঘটনার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কেউ চিনলে তাঁকে জানানোর অনুরোধ করেন তিনি।

এরপর আজ মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকার এক ব্যক্তি হোসেনকে ফোন করে টাকা চুরির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে কবিরকে শনাক্ত ও আটকের কথা জানান। কবির ওই এলাকারই একজন বাসিন্দা। খবর পাওয়ার পরপরই হোসেন তাঁর লোকজন নিয়ে সেখানে পৌঁছান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ সময় কয়েকজন কবিরকে প্রচণ্ড মারধর করেন, যার ফলে তিনি গুরুতর আহত হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, পরবর্তীতে হোসেন ও তাঁর লোকজন আহত কবিরকে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকা থেকে প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় নিয়ে যান। হোসেনের বাড়ি ওই এলাকায়। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর কবিরের মৃত্যু হয় বলে তাঁদের ধারণা। এরপর তাঁর লাশটি একটি দোকানের সামনে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সন্ধ্যায় লাশটি উদ্ধার করে।

সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিস মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “স্থানীয় লোকজনের তথ্যের ভিত্তিতে সন্ধ্যায় দেবীপুর এলাকা থেকে কবিরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর শরীরে লাঠির আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা, কী কারণে তাঁকে মারধর করেছে, তা তদন্তের আগে নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”