বিদেশ থেকে দেশে ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এক তরুণ। নোয়াখালীর একটি বাগানে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেছিলেন তিনি। সেখানে স্থানীয়ভাবে ‘ঝাক্কাস’ নামে পরিচিত এক ধরনের অ্যালকোহল-মিশ্রিত পানীয় পান করার পরপরই ওই তরুণসহ তাঁর চার বন্ধু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা আয়োজক তরুণকে মৃত ঘোষণা করেন। বাকি চার বন্ধু বর্তমানে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শনিবার রাতে নোয়াখালীর সদর উপজেলার কাদিরহানিফ ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খালপাড় এলাকায়। পুলিশ এবং নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছিলেন ওই তরুণ। বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে তিনি একটি বাগানে বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করেন। সেখানে মদের সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামের এক ধরনের অ্যালকোহল যুক্ত পানীয় তৈরি করে পান করেন তাঁরা। পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই সবাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থ হয়ে পড়া ওই বিদেশ ফেরত তরুণকে উদ্ধার করে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া আরও পাঁচজনের মধ্যে একজনকে বেসরকারি হাসপাতালে এবং তিনজনকে নোয়াখালী ২৫০ শয্যার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাঁদের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) চিকিৎসক মোহাম্মদ রাজিব উদ্দিন চৌধুরী মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “হাসপাতালে ভর্তি তরুণেরা বিষাক্ত মদ পান করেছেন। তবে তাঁরা কী ধরনের পানীয় ও মাদক খেয়েছেন, তা জানা যায়নি। এ জন্য তাঁদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
অন্যদিকে, সুধারাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইদ্রিসুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, তরুণেরা পার্টিতে মদের সঙ্গে বিভিন্ন উপকরণ মিশিয়ে ‘ঝাক্কাস’ নামের একধরনের অ্যালকোহল–জাতীয় পানীয় তৈরি করে সেবন করেন। এর বিষক্রিয়ায় একজন মারা গেছেন এবং বাকিরা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
পরিদর্শক মো. ইদ্রিসুর রহমান আরও জানান, পুরো ঘটনাটির তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। হাসপাতালে একজনকে মৃত ঘোষণার পর স্বজনরা মরদেহ বাড়িতে নিয়ে গেছেন। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় রাতে লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। আজ রোববার সকালে লাশ উদ্ধারের জন্য পুলিশ নিহতের বাড়িতে গিয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হবে এবং এর পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।