নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে পারিবারিক কলহের জেরে জামাতা আলমগীরের বিরুদ্ধে শ্বশুরবাড়ির বসতঘরে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন তার শাশুড়ি মোমেলা, শালিকা বৃষ্টি এবং নাতনি হাফসা। ঘটনার পর স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) এই মামলা দায়ের করা হয়। এর আগে গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে আড়াইহাজার পৌরসভার দাসপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন।
দগ্ধরা হলেন শাশুড়ি মোমেলা (৫৫), তার ছোট মেয়ে বৃষ্টি ও বড় মেয়ের ঘরের (নাতনি) হাফসা। গুরুতর অবস্থায় দগ্ধ তিনজনকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। শাশুড়ি মোমেলার অবস্থা আশঙ্কাজনক। অভিযুক্ত আলমগীর আড়াইহাজারের ঝাউগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তিনি তানিয়া আক্তারের স্বামী।
ঘটনাস্থলে যাওয়া আড়াইহাজার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাকিম স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, বুধবার রাতে মোমেলা, তার মেয়ে বৃষ্টি ও নাতনি হাফসা বসতঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ঘরে আগুন লাগে। স্থানীয়রা আগুন দেখতে পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
এসআই হাকিম জানান, আগুনে শাশুড়ি, মোমেলা গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। বৃষ্টির হাত এবং শিশু হাফসার নাক দগ্ধ হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে তিনজনকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য, স্ত্রী তানিয়ার সঙ্গে তার স্বামী আলমগীরের দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ চলছিল। ওই বিরোধের জেরে আলমগীর রাতে ঘরের ছিটকিনি বাইরে থেকে লাগিয়ে তার শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যদের হত্যার উদ্দেশ্যে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এবিষয়ে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সবজেল হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাকের বিষয়কে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ওই নারীর, স্বামী ও তার সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজন মিলে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে একই পরিবারের তিনজন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।"
তিনি আরও বলেন, "এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার তার স্ত্রী তানিয়া আক্তার বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তানিয়ার স্বামী আলমগীরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে, আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তার স্বামীর মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করেছে পুলিশ। তবে এখনো তাকে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।"