নোয়াখালী সদর উপজেলায় মো. কবির হোসেন (৩৫) নামের এক প্রতিবন্ধী যুবককে চোর আখ্যা দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় জনপদ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় নিহত কবিরের মরদেহ সামনে রেখে এলাকাবাসী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এই কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন ঘটনার সময় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ প্রদর্শিত হয়। উপস্থিত জনতা সেই ফুটেজ দেখে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের পাশাপাশি যারা উস্কানি দিয়েছেন, তাদেরও শনাক্ত করেন এবং দ্রুত আইনের আওতায় আনার জোরালো দাবি জানান।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয়দের বিবরণ অনুযায়ী, কবির একজন প্রতিবন্ধী যুবক ছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় তাকে চোর হিসেবে অভিযুক্ত করে প্রকাশ্যে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। নির্যাতনের তীব্রতায় তিনি মৃত্যু বরণ করেন। পরবর্তীতে সন্ধ্যায় পাশের নেয়াজপুর ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কবির যদি সত্যিই চুরির সাথে জড়িত থাকতেন, তবে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া যেত অথবা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে তাকে প্রকাশ্যে নির্মম নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। তাদের দাবি, নির্যাতনের সময় উপস্থিত অনেকে উল্লাস করছিলেন এবং জোরপূর্বক চুরির স্বীকারোক্তি আদায়ের দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়েছে। তাকে ‘দুর্ধর্ষ চোর’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি লাইভ ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকাবাসীর মতে, ওই ভিডিওতে কবিরকে গুরুতর আহত অবস্থায় একটি খুঁটির সঙ্গে বেঁধে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এবং তাকে ‘দুর্ধর্ষ চোর’ হিসেবে আখ্যা দিতে দেখা যাচ্ছে।
ঘটনার পর যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই নৃশংস ঘটনার সাথে জড়িত আরও অনেক ব্যক্তি এবং মূল উস্কানিদাতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।
মানববন্ধন কর্মসূচির মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ঘটনার সাথে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা আহ্বান জানান, ভবিষ্যতে যেন কোনো ব্যক্তি অপরাধী সন্দেহে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো কাজ না করেন।