লিবিয়ায় সক্রিয় মানব পাচার চক্রের সাথে জড়িত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে এক মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচিতে পাচারের শিকার ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এই প্রতিবাদ কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন চলাকালীন এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখা যায় যখন ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি গ্রামের ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ব্যানারের সামনে এসে উচ্চস্বরে আর্তনাদ করতে থাকেন। তাঁর আকুতি ছিল তীব্র। তিনি বলেন, ‘ও ভাই, কোন জায়গায় গেলে বিচার পাব? সরকার কি দেখছে না? এই মাফিয়ার বিচার করবে কারা? আমারে নিঃস্ব করে ফেলছে।’
মিজানুর রহমান নগরকান্দা উপজেলার ফুলসুতি গ্রামের গেন্দু মাতুব্বরের সন্তান। তিনি অভিযোগ করেন যে, তাঁকে ইতালি পাঠিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিবিয়ায় আটকে রাখা হয়। সেখানে তাঁকে অকথ্য নির্যাতন করা হয় এবং তিন দফায় মোট ৬০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ফরিদপুরের একটি মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্র। নির্যাতনের ভয়াবহতা যখন অসহনীয় হয়ে ওঠে, তখন তিনি জানালা ভেঙে পালিয়ে দেশটির পুলিশের কাছে আশ্রয় চান এবং ধরা দেন। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহায়তায় চলতি বছর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
একই চক্রের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়ে চলতি বছর লিবিয়া থেকে অভিবাসন সংস্থার মাধ্যমে দেশে ফিরে আসা আরও ১১ জন ব্যক্তি এই মানববন্ধনে যোগ দেন। এছাড়া স্বামী হত্যার বিচারের দাবিতে এই কর্মসূচিতে উপস্থিত হন হাবিবের স্ত্রী তাসলিমা বেগম। বর্তমানে তিনি তাঁর তিন সন্তানকে নিয়ে অত্যন্ত মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
মানববন্ধনে তাসলিমা বেগম তাঁর কষ্টের কথা জানিয়ে বলেন, মুক্তিপণের ১০ লাখ টাকা দিতে না পারায় তাঁর স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি তিন সন্তান নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি তাঁর স্বামীর হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামসুল আজম জানান, ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যদি যথাযথভাবে অভিযোগ দায়ের করে, তবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া কেউ যদি ইতিমধ্যে মামলা করে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।