লিবিয়ায় অবস্থানরত ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক স্বেচ্ছায় দেশে প্রত্যাবাসন করেছেন। এদের মধ্যে ১৮ জন অসুস্থ রয়েছেন। বাংলাদেশ দূতাবাস এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ প্রচেষ্টায় তাঁদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ভোর চারটা ৫১ মিনিটে লিবিয়ার মিসরাতা শহর থেকে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁরা ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দুপুরে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উদ্যোগ এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমটি পরিচালিত হয়েছে।
বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রত্যাবাসিত নাগরিকদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং আইওএম-এর কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “ফেরত আসা বাংলাদেশিদের একটি বড়ো অংশ মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় সমুদ্রপথে ইউরোপ গমনের উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন। লিবিয়াতে অবস্থানের সময় তাদের অনেকে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন।” মানবপাচারকারীদের ফাঁদে পা দেওয়া এবং অনিয়মিত অভিবাসনের সাথে জড়িত ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই প্রত্যাবাসিতদের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা সবার সাথে ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
দেশে ফিরে আসা প্রত্যেক নাগরিককে আইওএম-এর পক্ষ থেকে পকেট খরচ, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা এবং যাদের প্রয়োজন তাদের জন্য অস্থায়ী বাসস্থানের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং আইওএম যৌথভাবে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।