পাকিস্তানে জারি করা গভর্নরের শাসন এবং জরুরি অবস্থার পদক্ষেপকে হাইকোর্টে চ্যালেঞ্জ জানানো হবে। আজ মঙ্গলবার পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) চেয়ারম্যান গহর আলী খান এই ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ‘গভর্নরের শাসন ও জরুরি অবস্থা জারির বিরুদ্ধে আমরা হাইকোর্টে আবেদন করছি।’ একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, তাঁর দল এই বিষয়ে সাংবিধানিক ও আইনি লড়াই অব্যাহত রাখবে।

পিটিআই নেতা গহর আলী খান আরও বলেন, তাঁর দল সর্বদা একটি অবাধ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের সমর্থক। একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে জরুরি অবস্থা জারি এবং গভর্নরের শাসন চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি সম্পূর্ণ অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন। এই পরিস্থিতি নিয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক সালমান আকবর রাজা বলেন, ‘আন্দোলন করা— এটা আমাদের অধিকার।’

উল্লেখ্য, পিটিআইয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তি সহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পিটিআই এবং পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই মুখোমুখি অবস্থানের মধ্যেই গত রবিবার খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা ও গভর্নরের শাসন জারি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সরকার সংবিধানের নিরাপত্তাসংক্রান্ত দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এই জরুরি অবস্থার ঘোষণা দেয়। এর ফলে ওই প্রদেশে পিটিআই পরিচালিত প্রাদেশিক সরকারের যাবতীয় কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে।

সরকার ও পিটিআইয়ের মধ্যে চলমান এই সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম-পাকিস্তানের (জেইউআই-এফ) নেতা মাওলানা ফজলুর রহমান। সম্ভাব্য সংঘাত এড়াতে উভয় পক্ষই তাঁর শরণাপন্ন হয়েছেন। এই মধ্যস্থতা প্রসঙ্গে পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আকবর রাজা বলেন, ‘মাওলানা ফজলুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী সব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীও বলেছিলেন, বিষয়টি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এগিয়ে নেবেন। কিন্তু এরপর সরকার আলোচ্যসূচি বদলে ফেলে।’

অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী দাবি করেছেন যে, খাইবার পাখতুনখাওয়ায় রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কোনো অভিপ্রায় সরকারের নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সন্ত্রাস দমনে সব রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় গভর্নরের শাসন জারির পর গত সোমবার সড়ক অবরোধের কারণে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ ছিল। তবে গতকাল মঙ্গলবার পেশোয়ারের সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুনরায় খোলা রাখা হয়। এর মধ্যেই পেশোয়ারে আগামী সাত দিনের জন্য সব ধরনের সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে জেলা প্রশাসন।