রংপুরের গঙ্গাচড়ায় সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক দলীয়করণ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলেছেন রংপুর-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি নীতিমালার চেয়ে দলীয় প্রভাব বেশি কার্যকর হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেলে উপজেলা চত্বরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সংসদ সদস্য রায়হান সিরাজী এসব কথা বলেন। তাঁর এই বক্তব্য পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করে সংসদ সদস্য বলেন, “আমরা বলেছিলাম যে আমি ৩ লাখ ৭৫ হাজার ভোটারের এমপি। আমার একজন প্রতিনিধি রাখেন, একজন পেশাদার ব্যবসায়ী রাখেন, সরকারদলীয় একজন রাখেন। উনি আমার কথা রাখলেন না। উনি রাখলেন তার কথা..। সর্বশেষ বলল, ওপরের খুব চাপ। কমিটিতে রাখা যাবে না। এই ওপরের চাপ কোন চাপ? উনি ওই চেয়ার থেকে বলতে পারেন কি না জানি না। কারণ, এই আসনের আমি এমপি।”
নতুন সার ডিলার নিয়োগের এই প্রক্রিয়াকে তীব্র সমালোচনা করে রায়হান সিরাজী বলেন, “নতুন সার ডিলার নিয়োগে (গঙ্গাচড়ায়) পৃথিবীর নিকৃষ্টতম দলীয়করণ হয়েছে। সরকার ঘোষণা দিয়েছিল সবার আগে বাংলাদেশ। কিন্তু এই সার ডিলার নিয়োগে গঙ্গাচড়ায় সবার আগে বিএনপি প্রমাণিত হয়েছে।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সরকারি নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গির আলোকে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে, যাকে তিনি “বানরের পিঠা ভাগ করার শামিল” বলে অভিহিত করেন।
সংসদ সদস্যের দাবি, কোলকোন্দ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের তিনটি ওয়ার্ড এবং নোহালী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দাদের সার সংগ্রহের চরম দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে তিনি ওই দুই ইউনিয়নে যোগ্য আবেদনকারীদের মধ্য থেকে ডিলার নিয়োগের অনুরোধ জানিয়েছিলেন। তবে তাঁর সেই অনুরোধটি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই বক্তব্যের বিষয়ে আজ মঙ্গলবার রাতে মুঠোফোনে মুক্তকণ্ঠের সাথে কথা বলার সময় রায়হান সিরাজী বলেন, “সার ডিলারের আবেদন যাচাই কমিটি গঠনের সময় আমি দেশের বাইরে ছিলাম। ইউএনও আমার কথা রাখেননি। উনি (ইউএনও) রেখেছেন তার কথা, মানে ওপরের কথা।”
অন্যদিকে, এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. জেসমিন আক্তার এক ভিন্ন কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “এমপি মহোদয় আমাকে উদ্দেশ করে যেসব কথা বলেছেন, এমন কোনো কথা তিনি আমাকে বলেননি।”
উল্লেখ্য, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হুসেন জানিয়েছেন, উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি ছিল আট সদস্যের। এই কমিটি সার ডিলারের আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করার পর ইউনিয়ন প্রতি তিনজনের নাম জেলায় প্রেরণ করেছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের ৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত তালিকায় জেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে অনুমোদিত আবেদনকারীদের অস্থায়ী নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে বলা হয়েছে। ওই নথিতে কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও মনিটরিং কমিটির পক্ষে কৃষি অর্থনীতিবিদ শাহনাজ আক্তারের স্বাক্ষর রয়েছে।