সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে মৌখিক পরীক্ষার বা ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে নির্লজ্জ দলীয়করণের ইঙ্গিত হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বরের ভারসাম্য পরিবর্তন করে ভাইভার নম্বর অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির উদ্যোগে আমি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি এবং তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

পরওয়ার জানান, ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় সমান ৫০ নম্বর রাখার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, জনগণ এটিকে প্রশাসনিক দলীয়করণের একটি সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার বলেই দেখছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, লিখিত পরীক্ষা প্রার্থীর জ্ঞান, মেধা, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও প্রস্তুতির বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের সুযোগ দেয়। অন্যদিকে, মৌখিক পরীক্ষার মূল্যায়ন অনেকাংশেই পরীক্ষা বোর্ডের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ ও বিবেচনার ওপর নির্ভরশীল। ফলে ভাইভার নম্বরের ওজন বাড়ালে মেধার ব্যবধান কৃত্রিমভাবে পরিবর্তন করার পথ খুলে যাবে, যা যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করবে।

জামায়াতের নেতা আরও বলেন, প্রক্সি, জালিয়াতি ও অনিয়ম রোধে ভাইভার নম্বর বাড়ানো কোনো গ্রহণযোগ্য সমাধান নয়। প্রযুক্তিনির্ভর পরীক্ষাব্যবস্থা, বায়োমেট্রিক যাচাই, কঠোর নজরদারি, প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা, ডিজিটাল মনিটরিং এবং কঠোর শাস্তির মাধ্যমেই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের ভয়াবহ সংস্কৃতির অবসান চেয়েছে। সরকারের দায়িত্ব সেই গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণ করা, নতুন করে পুরোনো দলীয়করণের সুযোগ তৈরি করা নয়। তাই যে কোনো পরিবর্তন যা ভবিষ্যতে প্রশাসনে দলীয় আনুগত্যশীল জনবল প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করে, তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

সরকারের প্রতি আহ্বান রেখে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারি চাকরির ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের নিয়োগে ভাইভার নম্বর বৃদ্ধির বিতর্কিত সিদ্ধান্ত এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি, অর্থের লেনদেন ও সুপারিশের সংস্কৃতি বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে শতভাগ স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।