নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে বিরোধে জড়ানোর ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপির দুই নেতার পদ স্থগিত করা হয়েছে।

পদ স্থগিত হওয়া ওই দুই নেতা হলেন নারায়ণগঞ্জ সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং মহানগর বিএনপির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি শেখ আনজুম আহমেদ রিফাত।

গতকাল রবিবার রাতে মহানগর বিএনপির দলীয় প্যাডে এই পদ স্থগিতের চিঠিটি হোয়াটসঅ্যাপ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। উক্ত চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান এবং সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান। উল্লেখ্য, সাখাওয়াত হোসেন খান মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের পাশাপাশি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এবং জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

গত ৬ অক্টোবর জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের দ্বিতীয় তলায় সাখাওয়াত হোসেন খানের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আনোয়ার প্রধান ও শেখ আনজুম আহমেদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আনোয়ার প্রধানের দেওয়া জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাঁর পদ স্থগিত করা হয়েছে। একই ধরনের সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শেখ আনজুম আহমেদের বিরুদ্ধেও।

তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, যাঁর সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন, সেই সাখাওয়াত হোসেন খান নিজেই পদ স্থগিতের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান জানিয়েছেন, এই বিষয়ে আলাদা কোনো সাংগঠনিক তদন্ত চালানো হয়নি, তবে অভিযোগ প্রমাণিত বলে তারা মনে করছেন।

অন্যদিকে, এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন এইচ এম আনোয়ার প্রধান। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং দলের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে তাঁর দুটি পদ স্থগিত করা হয়েছে। অন্যদিকে, শেখ আনজুম আহমেদের দাবি, তিনি ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থাকলেও তাঁকে অন্যায়ভাবে শাস্তির আওতায় এনে পদ স্থগিত করা হয়েছে।

আনোয়ার প্রধান মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘আইনের বাইরে তাঁরা আমার পদ স্থগিত করেছেন। তাঁরা সদর থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ স্থগিত করতে পারলেও মহানগর বিএনপির সদস্যপদ স্থগিত করতে পারেন না। অন্যায়ভাবে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য আমার দুটি পদ স্থগিত করেছেন। আমার পদ স্থগিতের বিষয়ে কেন্দ্র কিছুই জানে না। আমি তাঁদের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দলের চেয়ারম্যান বরাবর আপিল করব।’

আনোয়ার প্রধান আরও অভিযোগ করেন যে, দুটি আদালত একসঙ্গে রাখার দাবিতে আইনজীবীদের আন্দোলন বন্ধ রাখতে চাপ সৃষ্টি এবং বারের সদস্য নন এমন একজন জুনিয়র আইনজীবীকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (স্পেশাল পিপি) হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিরোধের জেরে তাঁর বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান বলেন, মহানগর কমিটি চাইলে কমিটির অন্য সদস্যের পদও স্থগিত করতে পারে। আনোয়ার প্রধানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক তদন্ত না হলেও তিনি মারমুখী হয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ককে অবরুদ্ধ করে রেখেছিলেন, যা প্রমাণিত বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি আনোয়ারকে দল থেকে বহিষ্কারের জন্য দলের চেয়ারম্যানের কাছে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান সদস্যসচিব।

সদস্যসচিব আবু আল ইউসুফ খান বলেন, ‘মহানগর কমিটি চাইলে কমিটির অন্য সদস্যের পদও স্থগিত করতে পারে। আনোয়ার প্রধান মারমুখী হয়ে মহানগর বিএনপির আহ্বায়ককে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন, এটা প্রমাণিত।’

শেখ আনজুম আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে আবু আল ইউসুফ জানান, আনজুম আহমেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। তিনি নিজে তাঁকে সেখানে দেখেছেন এবং এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজও রয়েছে বলে দাবি করেন।

তবে শেখ আনজুম আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, ‘ঘটনাস্থলে না থেকেও আমাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের জবাব দেওয়ার পরও অন্যায়ভাবে পদ স্থগিত করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব গায়ের জোরে এটা করেছেন। বিষয়টি কেন্দ্রে জানানো হবে।’