নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার বক্তাবলীতে বিএনপি এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় একজন গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকেলে বক্তাবলী ইউনিয়নের আকবরনগর সিপাহীবাড়ি এলাকায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।

প্রাথমিক তথ্যানুসারে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং ইটভাটার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘাতের সূত্রপাত হয়। সংঘর্ষে গুরুতর আহতদের মধ্যে হৃদয় (২৬) গুলিবিদ্ধ এবং রাজু শেখ (৩০) টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আহত অন্যান্য ব্যক্তিদের স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বক্তাবলীতে আধিপত্য বিস্তার ও ইটভাটার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হালিম আজাদের সঙ্গে অটোরিকশা–টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক আবদুল কাদির ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের অর্থ সম্পাদক হাজী সামেদ আলীর মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ বিদ্যমান ছিল। উল্লেখ্য, আবদুল কাদির মূলত সামেদ আলীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, আজ বিকেলে হালিম আজাদের সমর্থকরা সিপাহীপাড়া এলাকার বেশ কিছু বাড়িতে হামলা চালায় এবং ভাঙচুর ও গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটায়। এর প্রতিক্রিয়ায় আবদুল কাদির ও সামেদ আলীর অনুসারীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়। এই সময় দুই পক্ষের মধ্যে কয়েক দফা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া এবং গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে হৃদয় গুলিবিদ্ধ এবং রাজু শেখ টেঁটাবিদ্ধ হয়েছেন।

সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে দ্রুত ফতুল্লা মডেল থানা–পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে ৪০টি টেঁটা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে অটোরিকশা–টেম্পু শ্রমিক ইউনিয়নের দপ্তর সম্পাদক আবদুল কাদির বলেন, “বিএনপি নেতা হালিম আজাদ ও তাঁর লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাঁর কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় গতকাল শুক্রবারও তাঁর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়।”

অন্যদিকে, চাঁদা দাবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা হালিম আজাদ। তিনি দাবি করেন, কৃষক দলের একটি কর্মসূচি শেষ করে মিছিল নিয়ে ফেরার পথে সামেদ আলী ও আবদুল কাদিরের লোকজন তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তাঁদের পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তার ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”