নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটের টুকরার আঘাতে আহত হয়েছেন ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। গতকাল রোববার রাতে সদর উপজেলার ফতুল্লায় এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, আটক ব্যক্তির নাম জাকির হোসেন (৫৫)। তিনি জন্মগতভাবে বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে পরিবারসহ ফতুল্লার একটি ভাড়া বাসায় অবস্থান করছেন।
ঘটনার বিস্তারিত জানাতে পুলিশ জানায়, গতকাল রাত আটটার দিকে শিশুটিকে একা পেয়ে জাকির তাঁকে পাশের একটি নির্জন ও ফাঁকা কক্ষে নিয়ে যান এবং সেখানে ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এই ন্যক্কারজনক বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমা করেন।
জনসমাগম বাড়ার সাথে সাথে পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। এক পর্যায়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে জাকির ঘরের দরজা বন্ধ করে ভেতরে আশ্রয় নেন। খবর পেয়েই ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর ওসি মাহবুব আলমের নেতৃত্বে পুলিশি দল জাকিরকে ঘর থেকে বের করে থানায় নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেয়।
পুলিশের ভাষ্যমতে, রাত ১০টার দিকে যখন জাকিরকে নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বের হয়ে আসা হচ্ছিল, তখন উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে পুলিশের দিকে ইটের টুকরা ছোড়া হয়। সেই ইটের টুকরো সরাসরি ওসির মাথায় আঘাত করলে তাঁর মাথা ফেটে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে সহকর্মীরা তাঁকে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) শামীম হোসেন মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ধর্ষণচেষ্টায় জাকির হোসেনকে আটক করা হয়েছে। তাঁকে থানায় নেওয়ার সময় বিক্ষুব্ধ জনতার ছোড়া ইটের টুকরা ওসি মাথায় আঘাত পেয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”