নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে জাকির হোসেন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার সময় উত্তেজিত জনতার ছোড়া ইটের টুকরোর আঘাতে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম আহত হয়েছেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে ফতুল্লার এনায়েতনগর ইউনিয়নের একটি আবাসিক এলাকায়।

আটককৃত জাকির হোসেন বরিশালের বানারীপাড়া থানার গাবা গ্রামের কাদের হাওলাদারের ছেলে। তিনি তার পরিবার নিয়ে এনায়েতনগর ইউনিয়নের ওই আবাসিক এলাকায় বসবাস করে আসছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাকির হোসেন এবং ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবার একই বাড়িতে পাশাপাশি কক্ষে ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করেন। অভিযোগ উঠেছে যে, রোববার রাত ৮টার দিকে শিশুটিকে একা পেয়ে জাকির হোসেন তাকে ধর্ষণ করেন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বাড়ির সামনে জড়ো হন এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জাকির হোসেন নিজেকে রক্ষা করার জন্য ঘরের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফতুল্লা মডেল থানার পুলিশ এবং তাকে আটক করে। এরপর উত্তেজিত জনতাকে সরিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পুলিশের ভাষ্যমতে, ঘটনাস্থল থেকে জাকির হোসেনকে নিয়ে বের হওয়ার সময় পেছন থেকে উত্তেজিত জনতার মধ্য থেকে ইটের টুকরো ছোড়া হয়। সেই সময় একটি ইটের আঘাত ওসি মাহাবুব আলমের মাথায় লাগে, যার ফলে তিনি আহত হন। পরবর্তীতে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য নারায়ণগঞ্জ শহরের ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুব আলম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ধর্ষণের অভিযোগে একজনকে আটক করতে গেলে সেখানে উত্তেজিত জনতা ইটপাটকেল ছোড়ে। একটি ইট আমার মাথায় এসে লাগায় আমি কিছুটা আহত হয়েছি। তবে পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়নি।” তিনি আরও জানান, “ধর্ষণের অভিযোগে জাকির হোসেন নামে একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”