মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় স্থানীয় বিএনপির দুই নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বরাইদ ইউনিয়ন শাখার কারাবন্দী আইনবিষয়ক সম্পাদক মুহাম্মদ রুহুল আমিনের জামিনে মুক্তির লক্ষ্যে প্রত্যয়নপত্র প্রদান করায় তাঁদের বিরুদ্ধে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

পদ স্থগিত হওয়া ওই দুই নেতা হলেন বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ এবং ওই ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন।

জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাঁরা দলীয় প্রভাব খাটিয়ে অনৈতিক, নীতিবিবর্জিত এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিলেন। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁদের সাংগঠনিক পদ স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

গতকাল রোববার জেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে প্রেরিত চিঠিতে এই স্থগিতাদেশের কথা জানানো হয়। উক্ত চিঠিতে স্বাক্ষর করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এ এফ এম নুরতাজ আলম বাহার। আজ সোমবার সকালে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৪ সেপ্টেম্বর, যখন বরাইদ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুল হামিদ, ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেন এবং ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুল মান্নানের স্বাক্ষর করা একটি প্রত্যয়নপত্র প্রকাশ্যে আসে।

ওই প্রত্যয়নপত্রে দাবি করা হয়েছিল, “রুহুল আমিন ও তাঁর পরিবার আগে থেকেই বিএনপির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এবং বিএনপির সব কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন। রুহুল আমিন কখনো আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।”

এর পাশাপাশি উপজেলা তাঁতী দলের সভাপতি বাবুল হোসেনের স্বাক্ষর করা আরও একটি পৃথক প্রত্যয়নপত্র পাওয়া যায়। সেখানে রুহুল আমিনকে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং ৫ আগস্টের আগে ফ্যাসিস্ট সরকারের উৎখাতের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

তবে অনুসন্ধানের মাধ্যমে জানা গেছে, রুহুল আমিনের এই দাবির বিপরীত তথ্য রয়েছে। ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আফাজ উদ্দিনের স্বাক্ষরিত বরাইদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ঘোষিত কমিটিতে রুহুল আমিনকে আইনবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উল্লেখ্য, ওই কমিটি এখনো বহাল রয়েছে।

বর্তমানে রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড, নাশকতার পরিকল্পনা এবং অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির অভিযোগে কারাগারে বন্দি রয়েছেন রুহুল আমিন। গত ২২ সেপ্টেম্বর সাটুরিয়া থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং পরের দিন আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

এই পুরো বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরতাজ আলম বাহার জানান, “আওয়ামী লীগের এক নেতাকে কারাগার থেকে মুক্ত করতে দেওয়া প্রত্যয়নপত্রটি দলীয় সিদ্ধান্ত ছিল না; এটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।” তিনি আরও জানান, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ওই দুই নেতার বিষয়ে স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।