বরিশালের বাবুগঞ্জে দাম্পত্য কলহের জেরে ঐশী আক্তার (২৫) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। এই ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী সোহেল খানকে (২৮) আটক করেছে স্থানীয় পুলিশ।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়।
নিহত ঐশী আক্তার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের বাহেরচর সাধুকাঠী গ্রামের শাহে আলমের মেয়ে। অন্যদিকে তার স্বামী সোহেল খান কেদারপুর ইউনিয়নের ভূতেরদিয়া গ্রামের কাদের খানের ছেলে। পেশায় রাজমিস্ত্রি সোহেল ও ঐশী দম্পতির তিন মাস বয়সী এক শিশুসন্তান রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা এবং নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহের কারণে ঐশীকে প্রায়ই মারধর করতেন সোহেল। ঘটনার তিন দিন আগে দুজনের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার একপর্যায়ে সোহেল লোহার রড দিয়ে ঐশীর মাথায় আঘাত করেন এবং চোখে ঘুষি মারেন। এই নৃশংস আক্রমণে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়।
রোববার গভীর রাতে ঐশীর শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি হলে তিনি স্বামীর বাড়িতে অচেতন হয়ে পড়েন। পরদিন সোমবার সকালে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বাবুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ কে মনিরুল ইসলাম জানান, “মস্তিষ্কে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঐশীর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া তার চোখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।”
বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান হাওলাদার জানান, খবর পেয়ে পুলিশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে অভিযুক্ত স্বামী সোহেল খানকে আটক করেছে। প্রাথমিকভাবে দাম্পত্যকলহের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, “এ ঘটনায় নিহত গৃহবধূর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও অধিকতর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”