বরিশালের বাবুগঞ্জে সুগন্ধা নদীর হঠাৎ তীব্র ভাঙনে শনিবার পর্যন্ত প্রায় ২০০ গজ এলাকা নদীতে বিলীন হয়েছে। শুক্রবার রাতে শুরু হওয়া এই ভাঙনে বাবুগঞ্জ বাজারসংলগ্ন এলাকার একটি পুরোনো মসজিদ, দুটি বসতভিটা, দুটি দোকান এবং খেয়াঘাটের গণশৌচাগারসহ বিভিন্ন স্থাপনা ও গাছপালা নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে এখন পড়েছে নবনির্মিত খেয়াঘাট জামে মসজিদ, আরও কয়েকটি দোকান, বাবুগঞ্জ-কেদারপুর খেয়াঘাট সংযোগ সড়ক এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) পন্টুন।
সরেজমিনে বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের বাজারসংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সুগন্ধার পাড়জুড়ে ভাঙনের গভীর ক্ষত। কোথাও মাটির বিশাল অংশ নদীতে ধসে পড়েছে, আবার কোথাও স্থাপনার গোড়া উন্মুক্ত হয়ে গেছে। নদীর দিকে হেলে পড়া গাছপালা এবং কমে আসা নদী-বাজার ব্যবধান আশপাশের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
বাবুগঞ্জ বাজারের বাসিন্দা ও বাবুগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, "বাজার ও আশপাশের ঘরবাড়ি রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবালকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, ঘরবাড়ি নদীতে চলে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নিয়ে ক্ষতি পোষানো সম্ভব নয়।"
স্থানীয় বাসিন্দা রিয়াজ আদনান বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই বাবুগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকিতে। এবার ভাঙন ভয়াবহ আকার নিয়েছে। দ্রুত বাজার ও বসতবাড়ি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, সুগন্ধা, সন্ধ্যা ও আড়িয়াল খাঁ নদীর ভাঙনে বছরের পর বছর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও স্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। বিভিন্ন সময়ে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হলেও তা স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি।
এ বিষয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, "পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে বাজার রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।" অন্যদিকে, বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন জানান, বাবুগঞ্জ বাজার রক্ষায় একটি প্রকল্প পানি উন্নয়ন বোর্ডে জমা দেওয়া আছে। সেটি বাস্তবায়নের বিষয়ে তিনি বোর্ডের সঙ্গে কথা বলবেন।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জাবেদ ইকবাল দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।