ভারতের সুপ্রিম কোর্টের দিকে দেশটির বিরোধী জোটের একটি মিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করায় আজ সোমবার নয়াদিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশেষ করে লুটিয়েন্স দিল্লি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত জোরদার করা হয়েছে। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাতেই বিরোধীরা এই মিছিলের ডাক দিয়েছে।
বিরোধীদের দাবি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের প্রতিবাদ জানাতেই আজ সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে মিছিল করার পরিকল্পনা করেছে বিরোধী দলগুলো।
এর আগে টানা দুই দিন ধরে রাজধানী নয়াদিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তা বজায় রাখা হয়েছিল, যার ফলে অনেক মানুষকে আটকও করা হয়। পুলিশ যন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার রাস্তাগুলোতে ব্যারিকেড বসিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা যাতে তাদের নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলে জড়ো হতে না পারে, সেজন্য শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল রোববার গভীর রাতে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে। সেখানে জানানো হয়েছে যে, এই কর্মসূচির কারণে নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়, "পরিস্থিতি অনুযায়ী আজ সকাল ছয়টা থেকে যানবাহন অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হতে পারে; পাশাপাশি বিভিন্ন রাস্তায় চলাচলে বিধিনিষেধও জারি হতে পারে।"
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোট ৩০টি চিহ্নিত এলাকায় যান চলাচল প্রভাবিত হতে পারে। ট্রাফিক পুলিশ সাধারণ যাত্রীদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া যাতায়াত এড়িয়ে চলার অনুরোধ জানিয়েছে এবং যাত্রার পরিকল্পনা আগে থেকেই করে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। বিশেষ করে যাঁরা নয়াদিল্লির রেলস্টেশন, আন্তরাজ্য বাস টার্মিনাল কিংবা বিমানবন্দরে যাবেন, তাঁদের সতর্ক থাকার কথা বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "আজ কতটা বিধিনিষেধ জারি থাকবে, তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ঠিক করা হবে। এ ক্ষেত্রে বিক্ষোভকারীদের গতিবিধিও বিবেচনায় রাখা হবে।"
হিন্দুস্তান টাইমসের খবর অনুযায়ী, বিরোধী ইন্ডিয়া জোটের নেতারা আজ ইন্ডিয়া গেটে জড়ো হয়ে সেখান থেকে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করবেন। তাঁদের পরিকল্পনা রয়েছে বিকেল চারটার পর ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করার। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) প্রধান অখিলেশ যাদবও এই মিছিলে যোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল দেশটির সাধারণ নাগরিকদের এই কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিতে চায়। তবে জানা গেছে, বিরোধী নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত।