নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবারের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা চুরির ঘটনার পাঁচ দিন পর কেবল ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ল্যাপটপটি চালু হওয়ার পর সেটির অবস্থান ট্র্যাকিং করে নাটোর শহরের কাপড়িয়া পট্টি এলাকার একটি কাপড়ের দোকান থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে একই সাথে চুরি হওয়া ক্যামেরাটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অন্তর নামের এক যুবক এবং তার বাবা অমল সাহাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।

রোববার রাতে নাটোর সদর থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার শরীফুল হক এই তথ্য জানান।

পুলিশ সুপারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর তিতুমীর এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সান্তাহার হয়ে নওগাঁ যাওয়ার পথে নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার ব্যবসায়ী অমল কুমার সাহা ট্রেনের সিটের নিচে একটি ব্যাগ খুঁজে পান। এরপর তিনি ব্যাগটি নিয়ে নওগাঁ চলে যান। ব্যাগটি খোলার পর তিনি ভেতরে ল্যাপটপ দেখতে পান। পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগ চুরির খবর পড়ার পর অমল কুমার সাহা তার ছেলে এবং কাপড়িয়াপট্টির নূর ক্লথ স্টোরের কর্মচারী অন্তরকে বিষয়টি জানান। তবে ছেলে অন্তর বাবাকে বলেন যে বিষয়টি পরে দেখা যাবে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, "আজ (রোববার) তাঁরা (পিতা-পুত্র) নওগাঁ থেকে নাটোরে এসে পৌঁছালে আমরা ম্যাকবুকের লোকেশন শহরের মধ্যে পাই। লোকেশন ট্র্যাক করে কাপুড়িয়াপট্টি এলাকা ঘিরে ফেলে নূর ক্লথ স্টোরের সামনে থাকা অমল সাহার ছেলে অন্তরের থেকে পুলিশ ল্যাপটপটি উদ্ধার করে।"

তিনি আরও উল্লেখ করেন, "বর্তমানে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের (বাবা-ছেলে) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তারা ল্যাপটপটি পাওয়ার বিষয়ে যে দাবি করছে তার সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনায় সম্পৃক্ত না থাকলে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে।"

তবে মূল অভিযুক্ত যুবকটি এখনও ধরা পড়েনি। পুলিশ সুপার বলেন, "যে যুবক ব্যাগটি নিয়েছিলেন বলে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, তাকে আমরা খুঁজে পাইনি। তাকে ধরতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তাকে পেলে ক্যামেরা পাওয়া যাবে।"

ল্যাপটপ উদ্ধারের বিষয়টি জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবারকে জানানো হয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, ল্যাপটপটি উদ্ধারের খবরে ওই পর্যটক পুলিশ ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং ল্যাপটপটি তার বলে নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, "ওনার অন্যান্য যে মালামাল রয়েছে সেগুলোও উদ্ধার আমরা কাজ করছি।"

ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার বিকেলে। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগটি রেখে টাকা তুলতে যান জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার উইবার। কিন্তু টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি দেখেন ওই ব্যক্তি সেখানে নেই। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কোনো কর্মকর্তা ছিলেন না।

এই ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ক্রিল ল্যান্ডার উইবার। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই হারানো ব্যাগটি উদ্ধারে তৎপর হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।