বাংলাদেশে ভ্রমণের সময় ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। সম্প্রতি তাঁর চুরি যাওয়া ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীতে শনাক্ত হয়েছে। তবে পুলিশকে এই সংকেতের কথা জানানো সত্ত্বেও ডিভাইসটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। ল্যাপটপে সংরক্ষিত গত ছয় মাসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হারানোর প্রবল শঙ্কায় রয়েছেন তিনি।

আজ রোববার সকালে নিজের মুঠোফোনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন তালাইমারি এলাকায় ল্যাপটপটির অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত পান ক্রিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে তিনি দ্রুত রাজশাহী পুলিশকে অবহিত করেন। তবে সন্ধ্যা পর্যন্ত ল্যাপটপটি উদ্ধারের কোনো সুখবর পাননি বলে জানিয়েছেন এই পর্যটক।

ক্রিল ল্যান্ডার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “তাঁর ল্যাপটপে অবস্থান শনাক্ত করার একটি ব্যবস্থা রয়েছে। কেউ ল্যাপটপটি চালু করার চেষ্টা করলে তাঁর কাছে সংকেত আসে। আজও এমন সংকেত পাওয়ার পর তিনি পুলিশকে তথ্য দিয়েছেন। কিন্তু ল্যাপটপটি ফেরত পাওয়ার অপেক্ষা শেষ হয়নি।”

এই বিষয়ে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “নাটোর সদর থানায় হওয়া একটি জিডির ভিত্তিতে রেলওয়ে পুলিশ কাজ করছে। তারা মূলত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য ইউনিটও মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে। তবে এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

ল্যাপটপের অবস্থান সম্পর্কে সংকেত পাওয়ার পরেও কেন তা উদ্ধার করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশের সক্ষমতা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা।

অন্যদিকে, রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানিয়েছেন, ল্যাপটপ উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে। অবস্থান শনাক্তকারী ডিভাইসে সংকেত পাওয়া গেলেও ল্যাপটপটির সুনির্দিষ্ট অবস্থান চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। ফলে সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

ওসি আরও বলেন, “সিম ব্যবহার করা হয় এমন কোনো ডিভাইস হলে সেটি শনাক্ত করা সহজ হতো। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সংকেত পাওয়ার পরও ঠিক কোন জায়গায় ল্যাপটপটি রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।”

চুরি যাওয়া ল্যাপটপটিতে ক্রিলের গত ছয় মাসের কাজ সংরক্ষিত ছিল। আইক্লাউড থেকে কিছু তথ্য উদ্ধার করতে পারলেও তার অধিকাংশ আলোকচিত্র ও সাম্প্রতিক ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) নকশার কাজ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ক্রিল ল্যান্ডার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ল্যাপটপটি তাঁর কাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো মূল্যে তিনি সেটি ফেরত পেতে চান। ল্যাপটপ ছাড়া তাঁর পক্ষে কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”

বাংলাদেশে আড়াই সপ্তাহ কাটিয়েছেন এই জার্মান পর্যটক। এখান থেকে স্থলপথে আজারবাইজান যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তাঁর। কিন্তু ল্যাপটপ ও ক্যামেরা হারিয়ে এখন ভ্রমণ সংক্ষিপ্ত করার কথা ভাবছেন তিনি।

গত বুধবার বিকেলে নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগটি হারান ক্রিল। ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। এ সময় ট্রেনের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে ব্যাগটি রেখে যান। টাকা তুলে ফিরে এসে ওই ব্যক্তি ও ব্যাগটি আর পাননি।

পরে ক্রিল জানতে পারেন, ব্যাগটি যাঁর কাছে রেখেছিলেন, তিনি রেলওয়ের কেউ নন। এ ঘটনায় নাটোর সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তিনি। স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে এক ব্যক্তিকে তাঁর ব্যাগ নিয়ে যেতে দেখা গেছে। পুলিশ ওই ব্যক্তিকে ধরার চেষ্টা করছে।

ম্যাকবুক উপহার পেয়েও কাজ করতে পারছেন না

চুরি যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার না হলেও গতকাল শনিবার নতুন করে একটি ম্যাকবুক উপহার পেয়েছেন ক্রিল। রাজধানীর ব্যবসায়ী মুক্তি মাহমুদ তাঁকে ম্যাকবুকটি দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্রিলের কান্নার ভিডিও দেখে নিজের ছেলের কথা মনে পড়ে মুক্তি মাহমুদের। এরপর তিনি সিদ্ধান্ত নেন, তরুণ এই পর্যটককে একটি ল্যাপটপ উপহার দেবেন। তাঁর আশা ছিল, বাংলাদেশ থেকে ফেরার আগে ক্রিল যেন কিছু ভালো স্মৃতি নিয়ে যেতে পারেন।

তবে উপহার পাওয়া ম্যাকবুক দিয়েও নিজের কাজ চালিয়ে যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন জার্মান তরুণ ক্রিল। তিনি জানান, মডেলের ভিন্নতার কারণে উপহার পাওয়া ম্যাকবুকটি দিয়ে থ্রিডি নকশার সফটওয়্যারগুলো চালাতে পারছেন না।

ম্যাকবুক উপহার দেওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ক্রিল বলেন, “বাংলাদেশের মানুষের সহমর্মিতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। কিন্তু চুরি যাওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরায় থাকা কাজ হারানোর বিষয়টি তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টের।”

এখনো নিজের ল্যাপটপটি ফেরত পাওয়ার অপেক্ষায় আছেন এই জার্মান পর্যটক।