নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা চুরি হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে পুলিশ তল্লাশি চালিয়েও এখন পর্যন্ত চুরি যাওয়া মালামালগুলো উদ্ধার করতে পারেনি। নাটোর রেলওয়ে স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজে এক ব্যক্তিকে ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগ নিয়ে চলে যেতে দেখা গেছে। পুলিশ এখন ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি চুরি হওয়া সরঞ্জামগুলো উদ্ধারে বিভিন্ন ইউনিটের মাধ্যমে কাজ করছে।

আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করছে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বুধবার বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। সেই মুহূর্তে ট্রেনের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এক ব্যক্তির কাছে তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরার ব্যাগটি রেখে যান। কিন্তু টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি লক্ষ্য করেন, ওই ব্যক্তি এবং তাঁর ব্যাগ—উভয়েই নিখোঁজ। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তি রেলওয়ের কোনো কর্মী নন। এই ঘটনার পর তিনি দ্রুত নাটোর সদর থানায় গিয়ে বিষয়টি অবহিত করেন। সেখান থেকে তাঁকে রাজশাহীতে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

চুরি যাওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরার সন্ধানে বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে রাজশাহীতে পৌঁছান ক্রিল ল্যান্ডার। ওই রাতে রাজশাহী রেলস্টেশনের একটি হোটেলে তাঁর থাকা ও খাওয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ। পরদিন বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেলওয়ে থানায় অবস্থান করেন। তবে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পরও তাঁর মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে বিকেলে তিনি পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরে যান।

পুরো বিষয়টি নিয়ে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায় মুক্তকণ্ঠকে বলেন, “ল্যাপটপ উদ্ধারের জন্য এখন ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা বা ল্যাপটপটি চালু হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। ল্যাপটপটি শিগগিরই উদ্ধার হবে বলে তিনি আশাবাদী। পুলিশ নিয়মিত তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে ও তদন্তের অগ্রগতি জানাচ্ছে। তিনি বুঝতে পারছেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। বগুড়া থেকে নাটোর পর্যন্ত রেলস্টেশনগুলোতে কর্মরত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার মাধ্যমে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।”