রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন, ‘প্রেম বলিলে দুই জন ব্যক্তি মাত্র বুঝায়, আর জগৎ নাই। দুই জনেই দুই জনের জগৎ।’ এই যে দুজনের একান্ত জগৎ, তাকে সুন্দর ও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারে দৈনন্দিন জীবনের ছোট ছোট কিছু অভ্যাস। সম্পর্কের গভীরতা বাড়াতে এবং একে অপরের প্রতি টান ধরে রাখতে কিছু বিশেষ রীতির কথা এখানে আলোচনা করা হলো।

প্রথমত, নিজেদের জন্য কিছুটা সময় বের করুন। এর জন্য দামী রেস্তোরাঁ বা পার্কে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, এমনকি দীর্ঘ এক ঘণ্টা সময় কাটানোরও দরকার নেই। দিনে মাত্র ১০ মিনিট সময় দিন শুধু আপনাদের দুজনের জন্য। তবে শর্ত একটাই—সেই সময়ে ফোনের স্ক্রিন থেকে দূরে থাকতে হবে। সারাদিনের মজার কোনো অভিজ্ঞতা একে অপরের সাথে ভাগ করে নিন, প্রাণ খুলে হাসুন, অথবা কোনো কথা না বলে কেবল পাশাপাশি চুপচাপ বসে থাকুন।

দ্বিতীয়ত, একে অপরের প্রতি সৌজন্য বজায় রাখা। নিঃশব্দে ঘর থেকে বেরিয়ে যাওয়া কিংবা ঘরে ঢুকে চুপচাপ নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়া দম্পতিদের জন্য শুভ লক্ষণ নয়। তাই ঘর থেকে বেরোনোর আগে সঙ্গীর কাছ থেকে বিদায় নিন। একইভাবে, আপনি বা আপনার সঙ্গী যখন ঘরে ফিরবেন, তখন উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। মাত্র কয়েক সেকেন্ডের এই সাধারণ অভ্যাসটিই বুঝিয়ে দেয় যে, আপনারা একে অপরের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয়ত, সম্পর্কের ভেতরে থাকা সেই মিষ্টি ছেলেমানুষিগুলোকে ধরে রাখুন। প্রতিটি দম্পতিরই কিছু নিজস্ব খুনসুটি থাকে—হয়তো একে অপরকে অদ্ভুত কোনো নামে ডাকা বা অর্থহীন কোনো বিষয়ে ঠাট্টা করা। বাইরের মানুষের কাছে তা অর্থহীন মনে হলেও আপনাদের দুজনের কাছে তা বিশেষ। এই ছোট ছোট পাগলামিগুলো সম্পর্কের মাধুর্য বাড়িয়ে দেয়, তাই এগুলোকে যত্ন করে পুষে রাখুন।

চতুর্থত, ঘুমানোর আগের মুহূর্তগুলোকে কাজে লাগান। কেবল উল্টো দিকে ফিরে শুয়ে পড়া নয়, বরং ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ কথা বলুন। খুব সাধারণ কিছু প্রশ্নও হতে পারে, যেমন— ‘আজকের দিনটা কেমন গেল?’ কিংবা ‘তোমার কি আমাকে কিছু বলার ছিল?’ এই ছোট ছোট আলাপচারিতা মনের জমে থাকা কথাগুলো খুলে দিতে সাহায্য করে। মনে রাখবেন, অনেক সময় মানুষ কোনো উপদেশ বা পরামর্শ চায় না, তারা শুধু চায় কেউ একজন তাদের জীবনের ছোটখাটো বিষয়গুলো মন দিয়ে শুনুক।

পঞ্চমত, সাধারণ মুহূর্তগুলোকে বিশেষ করে তুলুন। খুব রোমান্টিক কিছু হতে হবে এমন কোনো কথা নেই। রাতের খাবারের পর কিছুক্ষণ একসঙ্গে হাঁটা কিংবা সপ্তাহের একদিন একসঙ্গে বাজার করতে যাওয়াও হতে পারে বিশেষ মুহূর্ত। অবাক করার বিষয় হলো, অনেক সময় দামী হোটেলের রাজকীয় খাবারের স্মৃতি মনে না থাকলেও, কোনো এক সন্ধ্যায় বারান্দায় বসে একসঙ্গে চা খাওয়ার স্মৃতি মানুষ খুব মিস করে। এই সাধারণ অভ্যাসগুলোই হয়ে ওঠে সবচেয়ে ‘আরামদায়ক’ স্মৃতি। মনে রাখা প্রয়োজন, ঘনিষ্ঠতা কোনো আকস্মিক বিষয় নয়; এটি গড়ে ওঠে ধীরে ধীরে আমাদের প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসের মধ্য দিয়ে। (সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া)