অভিনেত্রী অধরা খান ‘ভায়োলেন্স’ সিনেমাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত আগস্ট মাসের শেষ দিকে এই চলচ্চিত্রটিতে তাঁর চুক্তিবদ্ধ হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছিল। সিনেমাটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কামাল হোসেন বাবর।

আজ রোববার সকালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া একটি পোস্টে অধরা খান তাঁর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘পরিচালকের অপেশাদার আচরণ ও যথাযথ যোগাযোগের অভাবে আমি অনেক আগেই সিনেমাটি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি।’

অধরার এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে পরিচালক কামাল হোসেন বাবরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে এখন পর্যন্ত তাঁর পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া বা সাড়া পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য যে, গত সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে কানাডার টরন্টোতে এই সিনেমাটির মহরত অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই প্রজেক্টে অধরা খান ছাড়াও অভিনয় করেছেন জায়েদ খান, শিরিন শিলাসহ আরও বেশ কয়েকজন শিল্পী। তবে সিনেমাটিকে কেন্দ্র করে অধরা দাবি করেছেন যে, তিনি বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ‘ভায়োলেন্স’-এর জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে হলিউডসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাজের সুযোগ তিনি গ্রহণ করতে পারেননি। তবে চুক্তিগত গোপনীয়তার বাধ্যবাধকতা থাকায় সেই কাজগুলোর বিস্তারিত বিবরণ তিনি প্রকাশ করতে পারছেন না।

অধরার অভিযোগ, এই সিনেমাটির কারণে তিনি অন্য কাজের সময়সূচি এবং পেশাগত প্রতিশ্রুতিগুলো যথাযথভাবে রক্ষা করতে পারেননি। এর ফলে তাঁর নিজস্ব কাস্টিং ডিরেক্টর এবং এজেন্সির কাছ থেকেও তিনি সতর্কবার্তা পেয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।

অভিনেত্রীর দাবি, সিনেমাটির শুটিং শুরুর মাত্র একদিন আগে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল, যা তাঁর জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক ছিল।

পুরো অভিজ্ঞতাকে নিজের ক্যারিয়ারের একটি বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন অধরা খান। যথাযথ পেশাদারিত্ব, সঠিক যোগাযোগ এবং পারস্পরিক সম্মানের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করে এই সিনেমাটিতে যুক্ত হওয়াকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের একটি বড় ভুল হিসেবে মনে করছেন।

নিজের ফেসবুক পোস্টে অধরা আরও উল্লেখ করেন যে, কাউকে ছোট করা কিংবা সিনেমাটির কোনো ক্ষতি করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। বরং তাঁর ভক্ত, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতেই এবং নিজের অবস্থান ও অভিজ্ঞতা পরিষ্কার করতেই তিনি এই বক্তব্য দিয়েছেন।