‘আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আমি কাল থাকব কি না, জানি না।’ মৃত্যুর মাত্র কয়েক দিন আগে জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে এমনই কথা বলেছিলেন বলিউডের প্রবীণ ও জনপ্রিয় অভিনেতা নানা পাটেকর। তাঁর সেই ভবিষ্যৎবাণীর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে চিরনিদ্রায় ঢলে পড়লেন তিনি। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাওলায় অবস্থিত নিজ বাসভবনে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৭৫ বছর।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ভোরে বাসায় অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকরকে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁকে আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি। ভোর ৫টা ১০ মিনিটের দিকে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার এই বিষয়ে জানিয়েছেন, নানা পাটেকরকে যখন হাসপাতালে আনা হয়, তখন তাঁর হৃদ্‌যন্ত্রের কোনো কার্যক্রম অবশিষ্ট ছিল না। তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় একটি মেডিকো-লিগ্যাল মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তাঁর ময়নাতদন্ত করা হবে বলে জানা গেছে।

মৃত্যুর আগে জীবনের শেষ সময় নিয়ে নানা পাটেকরের কথাগুলো এখন সবার মনে পড়ছে। গত ৪ অক্টোবর গোয়ার ডোনা পাওলায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানেই জীবনের নশ্বরতা নিয়ে কথা বলেন অভিনেতা।

নানা বলেন, ‘আমরা সবাই একদিন চলে যাব। আমি কাল থাকব কি না, জানি না। প্রত্যেক মানুষের জীবনই একদিন শেষ হবে। কিন্তু তার আগে আমাকে নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে: আমি যা করতে চাই, তা কি করতে পারছি?’

জীবন দর্শন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা আরও উল্লেখ করেন যে, মানুষের জীবন কেবল স্ত্রী, সন্তান কিংবা নিজের ঘরের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। ব্যক্তিগত সুখের পাশাপাশি সমাজের জন্য কিছু করার তাগিদ প্রতিটি মানুষের থাকা প্রয়োজন।

ওই অনুষ্ঠানে গোয়ার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মনোহর পারিকরকেও স্মরণ করেন নানা পাটেকর। পারিকরকে নিজের বন্ধু হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, একজন মানুষ তাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনে কতটা কাজ করে যেতে পারেন, মনোহর পারিকর ছিলেন তার এক অনন্য উদাহরণ।

পাঁচ দশকের দীর্ঘ অভিনয়জীবন ছিল নানা পাটেকরের। ১৯৫১ সালে জন্মগ্রহণ করা এই অভিনেতা ১৯৭৮ সালে মারাঠি চলচ্চিত্র ‘গমন’-এর মাধ্যমে রুপালি পর্দায় তাঁর যাত্রা শুরু করেন। পরবর্তীতে হিন্দি ও মারাঠি—উভয় ভাষার সিনেমাতেই তিনি নিজের এক শক্তিশালী ও স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করে নেন।

বিশেষ করে ‘পরিন্দা’, ‘ক্রান্তিবীর’, ‘তিরঙ্গা’, ‘খামোশি’ এবং ‘আব তক ছাপ্পান’-এর মতো চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। পাশাপাশি ‘ওয়েলকাম’ এবং ‘হাউসফুল’ সিরিজের মতো কমেডি সিনেমাগুলোতে হাস্যরসের অভিনয়েও তিনি দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন।

মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত অভিনয়ের সাথে যুক্ত ছিলেন নানা। ‘হাউসফুল ৫’-এর পর তাঁকে দেখা গেছে বিশাল ভরদ্বাজের ‘ও’রোমিও’ ছবিতে। শাহিদ কাপুর ও তৃপ্তি দিমরির এই চলচ্চিত্রে তিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন।