বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্তের করা একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। তনুশ্রীর এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে অল ইন্ডিয়ান সিনে ওয়ার্কার্স অ্যাসোসিয়েশন (এআইসিডব্লিউএ)। গত ৮ অক্টোবর নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন তনুশ্রী, যেখানে প্রয়াত অভিনেতাকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ শব্দ ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি শ্যামলাল গুপ্ত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে অভিনেত্রীর এই আচরণের কঠোর সমালোচনা করেছেন।

শ্যামলাল গুপ্ত বলেন, “নানা পাটেকরের মৃত্যুতে তনুশ্রীর মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে এআইসিডব্লিউএ।” সংগঠনটির দাবি, অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি সময়ে সস্তা জনপ্রিয়তার আশায় এই ধরনের মন্তব্য করেছেন অভিনেত্রী। তাদের প্রকাশিত বিবৃতিতে নানা পাটেকরের ভারতীয় চলচ্চিত্র জগৎ এবং সমাজের প্রতি অবদানের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয় যে, তিনি পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত হয়েছিলেন। এছাড়া নিজের ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি অসহায় কৃষকদের পরিবারকে সাহায্য করেছেন এবং কারগিল যুদ্ধের সময়েও সেবামূলক কাজ করেছেন। এআইসিডব্লিউএ তনুশ্রীর বক্তব্যকে ‘আপত্তিকর, অসংবেদনশীল ও লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছে এবং নানা পাটেকরের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।

অন্যদিকে, তনুশ্রী দত্ত তাঁর এই মনোভাবের পেছনে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা যখন নানা পাটেকরের বিষয়ে তাঁর মন্তব্য জানতে চান, তখন তিনি বলেন যে ২০১৮ সালে মি টু আন্দোলনের পর গত পাঁচ বছর ধরে তিনি চরম প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেছেন। তাঁর দাবি, মামলাটি তুলে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল এবং বিভিন্ন প্রলোভন দেখানো হয়েছিল, তবে তিনি সেই প্রলোভনে নতি স্বীকার করেননি এবং মামলা প্রত্যাহার করেননি।

তনুশ্রীর অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহার না করার পর থেকেই তাঁর জীবনে একের পর এক বিপদ নেমে আসে। তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়ির ব্রেক কেটে দেওয়া হয়েছিল, তিনি দুর্ঘটনার শিকার হন এবং ফুড পয়জনিংয়েও আক্রান্ত হন। এই সব তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই নানা পাটেকরের প্রতি তাঁর এমন দৃষ্টিভঙ্গি। তনুশ্রী বলেন, “যাঁরা তাঁর মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাননি, তাঁরা তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে পারবেন না। প্রত্যেক মানুষের অভিজ্ঞতা আলাদা, তাই তিনি নিজের অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই মন্তব্য করেছেন।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মি টু আন্দোলনের সময় তনুশ্রী দত্ত নানা পাটেকরের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করেছিলেন। তাঁর দাবি ছিল, ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার শুটিং চলাকালীন নানা পাটেকর তাঁর সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ করেছিলেন। তবে নানা পাটেকর সেই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছিলেন। বর্তমান বক্তব্যে তনুশ্রী মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ ও প্রলোভনের কথা বললেও, কারা এই কাজ করেছিলেন সে বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো নাম উল্লেখ করেননি।

গত বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ার ডোনা পাউলায় নিজ বাসভবনে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে ৭৫ বছর বয়সী কিংবদন্তি অভিনেতা নানা পাটেকর মৃত্যুবরণ করেন। বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করার পর তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। গোয়ার মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকারের বরাত দিয়ে জানা গেছে, চিকিৎসকেরা প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পরবর্তীতে পুনেতে তাঁর ফার্মহাউসে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয়। নানা পাটেকরের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অক্ষয় কুমার, রীতেশ দেশমুখ, অমিতাভ বচ্চন, শাহরুখ খান ও সালমান খানের মতো বলিউডের শীর্ষ তারকারা।