ভিকি জাহেদের ‘বিষ পাখি’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন মীর রাব্বি। উত্তরা এলাকায় নাটকের শুটিংয়ের ফাঁকে গতকাল মুক্তকণ্ঠের সাথে কথা বলেন এই অভিনেতা। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুরুল আলম।
প্রচণ্ড গরমে কাজের ব্যাঘাত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে মীর রাব্বি জানান, "প্রচণ্ড গরম। তবে এখন একটু বাতাস পাচ্ছি। এর মধ্যেই শুটিং করতে হবে, উপায় নেই।"
তার প্রতিটি কাজে চরিত্র ও অভিব্যক্তি আলাদা কেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "আমাকে নায়ক হতে হবে তেমন নয়। আমাকে নায়কোচিত লাগতেই হবে, এরও প্রয়োজন বোধ করি না। আমার মূল ইন্টারেস্টের জায়গা চরিত্র। ভালো চরিত্রের অপেক্ষায় থাকি, পরিচালকেরা সেসব চরিত্রের জন্য ডাকেন, আমি অভিনয় করি। এমন না যে আমি ফর্মুলাভিত্তিক অনেক কিছু করে ক্যামেরার সমানে দাঁড়াই। আমি পরিচালকের নির্দেশনায় কাজ করার চেষ্টা করি। তারপর সেই চরিত্র দর্শক আলাদা করতে পারলে নিজেকে লাকি ভাবি।"
ডিরেক্টরদের সহযোগিতা ও চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেয়ে নিজেকে সুখী মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, "ডিরেক্টররা আমাকে বোঝেন, রিড করে চরিত্র দেন, যে চরিত্রে ভেরিয়েশন থাকে, চ্যালেঞ্জ থাকে, চরিত্রটিকে তুলে ধরার লেয়ার থাকে। যে কারণে ডিরেক্টর কী চাইছেন, সেই অ্যাপ্রোচ আমাকে বুঝতে হয়। ব্যাটে–বলে মিলে গেলেই কিন্তু একটি চরিত্র দাঁড়িয়ে যায়। সেই ভালো চরিত্রকে তুলে ধরতে পারছি, নিয়মিত এমন চরিত্রের প্রস্তাব পাচ্ছি, দর্শক সেসব চরিত্র নিয়ে কথা বলছেন। সেই জায়গা থেকে নিজেকে লাকি ভাবি।"
অভিনয়শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রস্তুত রাখার পদ্ধতি সম্পর্কে মীর রাব্বি জানান, "এ প্রস্তুতি আমি শুটিংয়ে না থাকলেও চলমান থাকে। সব সময় নানা রকম কনটেন্টের সঙ্গে থাকি, পড়ি, প্রচুর দেখি। শৈশবে যে সিনেমা, চরিত্রগুলো আমার পছন্দের ছিল, সেসব এখনো নিয়মিত দেখি। নতুন কাজ দেখি। সিনেম্যাটিক একটা আবহের মধ্যে থাকার চেষ্টা করি। এর মধ্য দিয়ে একধরনের রিসার্চ, নতুন কিছু জানার চেষ্টা থাকে। অডিও ভিজ্যুয়ালে জার্নিটা চলতেই থাকে।"
বিদেশি সিনেমা দেখে কোনো অভিনয়শিল্পীর কাজ মিস করেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "নানা রকম চরিত্র মিস করি। যত দেখি তত মিস করি। এই সমন্বিত শিল্পমাধ্যমে এত এত ভালো কাজ, দেখে, প্রতিটি সময়েই মনের মধ্যে একটা হাহাকার তৈরি করে। একটা ক্ষুধা তাড়না তৈরি হয়, এ কাজগুলোর মধ্য দিয়ে একটা প্রত্যাশা তৈরি হয়। আমার কাজের ক্ষেত্রে হয়তো সেই প্রত্যাশা ফুলফিল হয় না।"
নিজের পছন্দের চরিত্র সম্পর্কে মীর রাব্বি বলেন, "আমি শার্লক হোমসের চরিত্র করতে চাই। যদি কখনো, এখানে যেকোনোভাবেই শার্লক হোমস নিয়ে কাজ হয়, তার সঙ্গে আমি থাকতে চাইব। আমি ফেলুদা হতে চাই, হিমু–বাকের ভাই চরিত্র করতে চাই। এগুলো আমার ভীষণ ভালো লাগার, ভালোবাসার চরিত্র। অভিনয়ে আসার আগে থেকেই এই চরিত্রে মুগ্ধ হয়েছি। আমার তো ক্যারিয়ার খুব বেশি দিনের নয়। বুক পকেটের গল্প দিয়ে নতুন করে ক্যারিয়ার শুরু। এখন নিয়মিত অভিনয় করে আরও বেশি মনে হয়, ইশ্, এমন চরিত্রগুলো যদি করতে পারতাম।"
পছন্দের সিনেমা সম্পর্কে তিনি আকিরা কুরোসাওয়ার ‘সেভেন সামুরাই’, ডেভিড ফিনচারের ‘ফাইটক্লাব’, গাই রিচির ‘স্ন্যাচ’, ‘রিভলবার’, ‘রকঅ্যান্ডরোল্লা’, ক্লিন্ট ইস্টউডের ‘ফর আ ফিউ ডলারস মোর’, ‘মিলিয়ন ডলার বেবি’, এবং ‘গুড ফেলাস’, ‘গডফাদার’, ‘চায়না টাউন’, ‘শাইনিং’-এর নাম উল্লেখ করেন।
সিনেমা তার জীবনে কী পরিবর্তন এনেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "যে সিনেমাগুলোর কথা বললাম, এগুলো আমার মধ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। আমার মনস্তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়েছে, ভাবনার খোরাক দিয়েছে, অনেক চিন্তার সুযোগ করে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এ সিনেমাগুলো আমি প্রায়ই দেখি। এগুলো স্কুলে পড়ার সময় এক রকম মনে হয়েছে, কলেজে পড়ার সময়ে মনে হয়েছে আরেক রকম, এখন দেখে মনে হয়, আরও নতুন কিছু শিখলাম, জানলাম। প্রতিবারই সিনেমাগুলোর মধ্যে নতুন কিছু পাই।"
বাংলাদেশে ছাড় দিয়ে কাজ করতে হয় বলে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, "সেটা তো করেই। বারবার আশাহত হই। অনেক সময় দেখা যায়, বাধ্য হয়েই কোনো একটি গল্প করতে হচ্ছে। আবার নিজের পছন্দের গল্পেও কাজ করার সুযোগ পাই; কিন্তু একটি কাজে সবার এনগেজমেন্ট খুবই জরুরি। আমি শুধু ভালো অভিনয় করে গেলাম মানেই কাজটি যে ভালো হবে, তা নয়। সব বিভাগের এনগেজমেন্ট দরকার। যে কারণে অনেক কাজ আশাহত করে।"
গত দুই মাস ধরে শুটিংয়ে না দেখা যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে মীর রাব্বি জানান, "অসুস্থতার কারণে। জন্ডিস, ডেঙ্গুতে ভুগেছিলাম। সেই সময়ে কাজ না করায় একটা অনীহা চলে এসেছিল; এত পরিশ্রম করি কিন্তু অনেক সময়ই সেটা কাজে দেয় না। যে কারণে উৎসাহ একটু কম ছিল। পরে তরুণদের সঙ্গে কিছু ইন্ডি সিনেমার কাজ করছি, শর্ট ফিল্ম, নাটক করছি। ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা সব সময় থেকেই যায়।"
‘বিষ পাখি’ নাটকটি দর্শক পছন্দ করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ভিকি জাহেদের কাজগুলো একটু আলাদা হয়। সে কখনো হরর, কখনো থ্রিলার বানায়। আমি নিজেও তার কাজের ভক্ত। তার বিষ পাখি নাটকটি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার। যদিও অনেক দৌড়ের ওপর কাজটি করেছি। তবে চরিত্রটি আমার পছন্দের ছিল।"
আগামী দিনের পরিকল্পনা সম্পর্কে মীর রাব্বি জানান, "বেশির ভাগই আমাকে দারুণ সব গল্পের ইন্ডি সিনেমায় দেখা যাবে। এর মধ্যে বকুলের বুকে রক্তকরবী, কূরকাব, দুঃসাহস সিনেমাগুলোর কাজ শেষ। এগুলো কোনোটি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে, কোনোটি আবার আন্তর্জাতিক ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে যাচ্ছে। হয়তো আগামী দিনে সুখবর পাব।"
বর্তমানে কোন নাটকের শুটিং করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, "পরিচালক সাজিন আহমেদের পছন্দ হয়নি কিন্তু ভালোবাসি নাটকের কাজ করছি। আমার সহশিল্পী আয়শা খান।"