এক গোলে এগিয়ে ছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষ টটেনহামের দল তখন ১০ জনের। ওল্ড ট্রাফোর্ডের মাঠে জয়ের জন্য এর চেয়ে অনুকূল পরিস্থিতি আর কী হতে পারত! কিন্তু ম্যাচের যোগ করা সময়ে ডমিনিক সলাঙ্কের একটি হেডে সব হিসাব উল্টে গেল। হাতের মুঠোয় থাকা জয় ফসকে যাওয়ায় মৌসুমের শুরুতে ইউনাইটেডের হতাশা আরও তীব্র হয়েছে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে টটেনহামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। স্বাগতিকরা ৭৩ মিনিটে ব্রায়ান এমবেউমোর গোলে লিড নিলেও যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে সলাঙ্কের গোলে সমতা ফেরায় সফরকারী দল টটেনহাম।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে এগিয়ে ছিল টটেনহাম। তৃতীয় মিনিটেই গোলের বড় সুযোগ পান সলাঙ্কে। ইউনাইটেডের গোলরক্ষক সেন্নে লামেন্সের একটি ভুল পাসের পর বল পেয়ে শট নেন এই ইংলিশ ফরোয়ার্ড। তবে দ্রুত নিজের ভুল সামলে নিয়ে তার প্রচেষ্টা রুখে দেন লামেন্স।

এরপরও রবের্তো দে জেরবির শিষ্যরা একের পর এক সুযোগ তৈরি করে গেছে। ২১ মিনিটে সাভিওর দেওয়া পাস থেকে মোহাম্মদ কুদুসের নেওয়া শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। বিরতির তিন মিনিট আগে কনর গ্যালাঘারের সামনে সুযোগ এলেও তিনি ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে ব্যর্থ হন।

অন্যদিকে, নিজেদের মাঠের সুবিধা থাকা সত্ত্বেও আক্রমণ গুছিয়ে নিতে হিমশিম খেয়েছে ইউনাইটেড। ৩৪ মিনিটে একটি প্রতি-আক্রমণ থেকে আমাদ দিয়ালোর শট সহজেই ঠেকিয়ে দেন টটেনহামের গোলরক্ষক আন্তোনিন কিনস্কি। ফলে গোলশূন্য অবস্থায় বিরতিতে যায় দুই দল।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও সুযোগ নষ্ট করেছে টটেনহাম। ৫১ মিনিটে সাভিওর ক্রস থেকে খুব কাছ থেকে বল জালে পাঠাতে ব্যর্থ হন সলাঙ্কে। তবে সময় গড়ানোর সাথে সাথে ম্যাচে ফিরতে শুরু করে ইউনাইটেড।

৭৩ মিনিটে স্বাগতিকদের জন্য প্রথম গোলটি করেন এমবেউমো। ম্যাথিউস কুনিয়ার পাস পেয়ে বক্সের ভেতরে ঘুরে বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠান ক্যামেরুনের এই ফরোয়ার্ড।

এর পাঁচ মিনিট পর টটেনহামের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। লুক শয়ের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বেন্তানকুরকে ধাক্কা দেন শ। এরপর ইউনাইটেডের এই ডিফেন্ডারের দিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার ভঙ্গি করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন উরুগুয়ের মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেন্তানকুর। একই ঘটনায় হলুদ কার্ড পান শ এবং ইয়ান পল ফন হেকে।

একজন খেলোয়াড় বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ইউনাইটেড। ৮৬ মিনিটে এমবেউমোর আরেকটি প্রচেষ্টা ঠেকিয়ে দেন টটেনহাম গোলরক্ষক কিনস্কি।

এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে ইউনাইটেডের জন্য বড় ধাক্কা। সান্দ্রো তোনালির ক্রসে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের বাধা সামলে হেডে সমতা ফেরান সলাঙ্কে। তার সেই গোলেই ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে এক পয়েন্ট নিয়ে ফেরে ১০ জনের টটেনহাম।

পুরো ম্যাচজুড়ে সুযোগ তৈরিতে এগিয়ে ছিল সফরকারীরাই। পরিসংখ্যানবিষয়ক প্রতিষ্ঠান অপটার হিসাব অনুযায়ী, ম্যাচে চারটি বড় সুযোগ তৈরি করেছে টটেনহাম। বিপরীতে ইউনাইটেড তৈরি করতে পেরেছে মাত্র একটি সুযোগ।

ছয় ম্যাচে মাত্র এক জয় ও তিন ড্রয়ে ইউনাইটেডের সংগ্রহ এখন ৬ পয়েন্ট। ১৯৮৬-৮৭ মৌসুমের পর লিগের প্রথম ছয় ম্যাচে এত কম পয়েন্ট পায়নি এই ক্লাব। অর্থাৎ গত ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বাজে শুরু করেছে ইউনাইটেড। ঘরের মাঠে ১০ জনের প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও জয় না পাওয়ায় কোচ মাইকেল ক্যারিকের ওপর চাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।