ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত জয়ের আশা ধরে রেখেছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষ ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া এবং নিজেদের লিড ধরে রাখার আত্মবিশ্বাসে ওল্ড ট্রাফোর্ডের গ্যালারি তখন জয়ের অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের নাটকীয়তায় সব হিসাব উল্টে দিলেন ডোমিনিক সোলাঙ্কি। তাঁর গোলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচটি, যা স্বাগতিক ইউনাইটেডের জয়ের স্বপ্নকে ভেঙে দেয়।
প্রিমিয়ার লিগে টানা তিনটি ম্যাচে জয়হীন থাকার পর নিজেদের ঘরে জয়ে ফেরার বড় সুযোগ ছিল মাইকেল ক্যারিকের শিষ্যদের সামনে। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিন পয়েন্ট ছিনিয়ে নিতে ব্যর্থ হয় ইউনাইটেড।
ম্যাচের প্রথমার্ধে আধিপত্য ছিল টটেনহামের। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে তারা ইউনাইটেডের রক্ষণভাগকে চাপে রাখে, তবে গোল করতে ব্যর্থ হয় অতিথিরা। দ্বিতীয়ার্ধে খেলার মোড় ঘোরে এবং স্বাগতিকরা সুযোগের পূর্ণ ব্যবহার করে এগিয়ে যায়। কিন্তু শেষ মুহূর্তের ধাক্কায় সেই লিড ধরে রাখা সম্ভব হয়নি তাদের।
ম্যাচের ৭৩ মিনিটে মাতেউস কুনিয়ার নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের ভেতরে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখান এমবেউমো। এরপর বাঁ পায়ের নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে ১-০ ব্যবধানে ইউনাইটেডকে এগিয়ে দেন তিনি। এই গোলের পর স্বস্তি ফিরেছিল ইউনাইটেডের সমর্থকদের মনে, তারা আশা করেছিলেন দীর্ঘ খরা কাটিয়ে এবার জয়ে ফিরবে দল।
তবে সেই স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। ৭৮ মিনিটে মাঠের পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লুক শ এবং টটেনহামের মিডফিল্ডার রদ্রিগো বেন্তাকুরের মধ্যে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে শুরু হয় হাতাহাতি। বেন্তাকুরের একটি কঠিন ট্যাকলের পর ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁকে ধাক্কা দেন লুক শ। এরপরই দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয় এবং দ্রুতই দুই দলের খেলোয়াড় ও বেঞ্চের সদস্যরা সেখানে জড়ো হয়ে এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। এই উত্তেজনার চরম পর্যায়ে বেন্তাকুর মেজাজ হারিয়ে লুক শ-কে ঢুস মারেন। রেফারির লাল কার্ডের পর ১০ জনের দলে পরিণত হয় টটেনহাম। তখন মনে হচ্ছিল, সংখ্যাগত সুবিধায় বাকি সময়টুকু সামলে তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়া ইউনাইটেডের জন্য সহজ হবে।
কিন্তু গল্পের মোড় ঘুরিয়ে দেন ডোমিনিক সোলাঙ্কি। ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে সান্দ্রো তোনালির ক্রস থেকে দুর্দান্ত হেডে গোল করে হিসাব সমান করে দেন তিনি। বাতাসে ইউনাইটেডের ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান এই ফরোয়ার্ড। গোলরক্ষক সেন লেমেন্সের পক্ষে এই শট ঠেকানো অসম্ভব ছিল। সাতটি হলুদ কার্ড এবং একটি লাল কার্ডের এই উত্তেজনাকর ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ সমতায়।
এই ড্রয়ের ফলে ছয় ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ১১ নম্বরে অবস্থান করছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। অন্যদিকে, তিন পয়েন্ট নিয়ে ১৮ নম্বরে রয়েছে টটেনহাম। লিগে এখনো জয়ের দেখা পায়নি তারা, তবে ওল্ড ট্রাফোর্ড থেকে পাওয়া এই মূল্যবান এক পয়েন্ট তাদের তলানির দিক থেকে এক ধাপ ওপরে ঠেলে দিয়েছে।