প্রিমিয়ার লিগে এভারটনের বিপক্ষে দুইবার এগিয়ে গিয়েও জয় পায়নি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। রবিবার লিভারপুলের হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে যোগ করা সময়ের শেষ দিকে আইনসলি মেইটল্যান্ড-নাইলসের গোলে ম্যাচটি ২-২ ড্র হয়েছে। দুইবার লিড হারানো নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠেছে রেড ডেভিলদের ম্যাচ সামলানোর সামর্থ্য নিয়ে।

ম্যাচে ইউনাইটেডের হয়ে গোল করেন ব্রায়ান এমবেউমো ও বেঞ্জামিন শেশকো। এভারটনের দুই গোল টাইরিক জর্জ ও অভিষিক্ত মেইটল্যান্ড-নাইলসের। তিন ম্যাচে ইউনাইটেডের পয়েন্ট এখন চার, এভারটনের পাঁচ।

প্রথমার্ধে সবচেয়ে বড় সুযোগটি পায় ইউনাইটেড। অষ্টম মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেজের ভলি ক্রসবারে লাগে। মার্কাস রাশফোর্ড বাঁ প্রান্ত দিয়ে এভারটনের রক্ষণকে চাপে রাখেন। ২২ মিনিটে তার কাটব্যাক থেকে সুযোগ পেলেও মাতেউস কুনিয়ার শট লক্ষ্যে ছিল না। বিরতির আগে এভারটনের থিয়ের্নো বারি ফাঁকা হেড করেও জালের ঠিকানা খুঁজে পাননি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই এগিয়ে যায় ইউনাইটেড। ৪৬ মিনিটে কোবি মাইনুর বল থেকে ডান দিক দিয়ে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের দারুণ শটে দূরের কোণে গোল করেন এমবেউমো। এরপর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রেখেছিল তারা। ৬১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিলেন কুনিয়া। প্রায় ফাঁকা গোলের সামনে তার শট নেওয়ার আগেই অসাধারণ ট্যাকলে বল কেড়ে নেন জেমস টারকোভস্কি। এই সুযোগ পুঁজি করতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত।

৬৬ মিনিটে জ্যাক গ্রিলিশ মাঠে নামার পর এভারটনের আক্রমণে গতি ও সমন্বয় বাড়ে। চাপ বাড়তে থাকলেও ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি ক্যারিকের দল। ৮২ মিনিটে সেই চাপ থেকে গোল আসে। হেইডেন হ্যাকনির বলে বক্সে ঢুকে জোরালো শটে টাইরিক জর্জ সমতা আনেন। প্রতিক্রিয়ায় শেশকো প্রথমে হেড নষ্ট করলেও ৮৭ মিনিটে লুক শ’র ক্রস থেকে ছয় গজের কাছ থেকে হেডে গোল করে ইউনাইটেডকে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

এই জায়গাটাতেই ইউনাইটেডের ম্যাচ সামলানোর ঘাটতি ধরা পড়ে। ম্যাচের শেষ দিকে বলের দখল ধরে রাখা, গতি কমানো এবং বক্সের সামনে এলাকা বন্ধ করা—এসবই করা উচিত ছিল, কিন্তু সেটি খুব একটা হয়নি। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে হ্যাকনির কাটব্যাক থেকে বল দূরে সরাতে না পেরে বক্সের বাইরে হেড করেও পরিষ্কার করতে পারেনি ইউনাইটেড। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে ডান পায়ের দুর্দান্ত শটে ওপরের কোণে গোল করেন মেইটল্যান্ড-নাইলস।

গোলটির মান যে অসাধারণ তা নিয়ে প্রশ্ন নেই। তবে ইউনাইটেডকে দেখতে হবে কেন তাদের বক্সের কাছে একজন প্রতিপক্ষ এতটা খোলামেলা জায়গা পেল। ম্যাচ বন্ধ করে দেওয়ার বদলে শেষ মুহূর্তে খোলা রাখার খেসারত দিতে হয়েছে তাদের।

একই ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও লিড রাখতে পারেনি ইউনাইটেড। এমবেউমোর গোলের পর প্রায় ৩৬ মিনিট লিড দেওয়ার পরও এভারটনের চাপ থামানো যায়নি। শেশকোর গোলের পর আবারও সেই ব্যর্থতা। ম্যাচ শেষ করে দেওয়ার সুযোগ দুইবার এসেছিল, কিন্তু কাজে লাগাতে পারেনি ক্যারিকের শিষ্যরা।

মৌসুমের প্রথম তিন ম্যাচে ইউনাইটেডের রেকর্ড মিশ্র। প্রথম ম্যাচে নবাগত হালের কাছে ২-০ ব্যবধানে হারের পর ইপসউইচকে ৫-২ গোলে হারিয়েছে তারা। এভারটনের বিপক্ষে জয় পেলে ছন্দ আরও শক্ত হতে পারত। তবে চার পয়েন্ট নিয়ে ১১তম স্থানে আছে দলটি।

এভারটনের মাঠে এমবেউমোর গোলটা ছিল দারুণ, শেশকোও বদলি নেমে কাজ করেছেন। কিন্তু বড় দল হয়ে উঠতে শুধু গোলই নয়, সেই গোল রক্ষা করার কৌশলও জানতে হয়। হিল ডিকিনসন স্টেডিয়ামে ইউনাইটেডের সবচেয়ে বড় ঘাটতি তা-ই।