মাঠে ফলাফল আগেই হতাশাজনক ছিল, এবার পরিসংখ্যানও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ক্রমবর্ধমান দুর্দশার চিত্র আরও পরিষ্কার করে দিল। প্রিমিয়ার লিগের ২০ দলের মধ্যে উচ্চ তীব্রতায় (হাই ইনটেনসিটি) দৌড় ও স্প্রিন্টের একাধিক সূচকে মাইকেল ক্যারিকের দল সবার নিচে অবস্থান করছে।

স্কাই স্পোর্টসের প্রকাশিত জিনিয়াসআইকিউয়ের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ তীব্রতায় অতিক্রম করা দূরত্ব, উচ্চ তীব্রতায় কাটানো সময়, মোট স্প্রিন্ট এবং স্প্রিন্টে কাটানো সময়—এই চারটি সূচকেই ইউনাইটেডের অবস্থান ২০তম। রোববার ফুলহামের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের ম্যাচে এই সমস্যাগুলো আরও স্পষ্ট হয়েছিল। পুরো ম্যাচে ফুলহামের চেয়ে ৬.৬ কিলোমিটার কম দৌড়েছে ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা।

দ্বিতীয়ার্ধের এক পর্যায়ে দলের নিষ্ক্রিয়তা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাবেক অধিনায়ক গ্যারি নেভিল। তার মতে, প্রায় ১৫ মিনিট ইউনাইটেডের খেলোয়াড়দের প্রচেষ্টার মাত্রা ছিল গ্রহণযোগ্যতার অনেক নিচে। পরিসংখ্যান বলছে, বল প্রতিপক্ষের দখলে থাকার সময় হাঁটার অনুপাতেও ইউনাইটেডের অবস্থান ভালো নয়; এই সূচকে তারা আছে ১৭ নম্বরে।

অবশ্য বেশি দৌড়ালেই যে ম্যাচ জেতা যায়, এমন নয়। চলতি মৌসুমে ইউনাইটেড শুধু লিগের শীর্ষে থাকা ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে বেশি দৌড়েছে। তারপরও একাধিক শারীরিক সূচকে সবার নিচে থাকা তাদের তীব্রতা ও কাজের হার নিয়ে প্রশ্ন বাড়াচ্ছে। ফুলহামের বিপক্ষে সমতাসূচক গোল করা মাতেউস কুনিয়াও ম্যাচ শেষে সমস্যাটা স্বীকার করেন। তার ভাষায়, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে প্রতিপক্ষ ইউনাইটেডের চেয়ে বেশি শক্তি নিয়ে খেলেছে এবং এমনটা গ্রহণযোগ্য নয়।

গত মৌসুমে ক্যারিকের অধীনে তৃতীয় হয়ে আশা জাগিয়েছিল ইউনাইটেড। কিন্তু নতুন মৌসুমের শুরুতে সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেনি তারা। তিন সপ্তাহের আন্তর্জাতিক বিরতিতে যাওয়ার আগে প্রিমিয়ার লিগে ইউনাইটেডের অবস্থান ১২তম। এই বিরতিতে তাই ফলের পাশাপাশি দলের ফিটনেস, তীব্রতা ও কাজের ধরন নিয়েও বড় কাজ করতে হবে ক্যারিককে।