স্নেইল ফিভার কোনো সাধারণ জ্বর নয়। এটি একধরনের পরজীবী কৃমি (সিস্টোসোমা) দ্বারা সৃষ্ট। এসব কৃমি জীবনচক্রের একটি অংশ কাটায় নির্দিষ্ট কিছু প্রজাতির মিষ্টি পানির শামুকের শরীরে। সেখান থেকে লার্ভাগুলো পানিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং যখন কোনো মানুষ সেই দূষিত পানিতে গোসল করে বা কাজ করতে নামে, তখন লার্ভাগুলো সরাসরি মানুষের ত্বকের ছিদ্র দিয়ে শরীরে প্রবেশ করে।
শরীরে পরজীবী প্রবেশের কয়েক দিনের মধ্যে ত্বকে চুলকানি বা লালচে র্যাশ দেখা দিতে পারে। তবে মূল লক্ষণগুলো প্রকাশ পায় এক-দুই মাস পর—
তীব্র জ্বর ও কাঁপুনি।
কাশি ও পেশিতে ব্যথা।
পেটব্যথা ও ডায়রিয়া।
দীর্ঘমেয়াদি সংক্রমণের ক্ষেত্রে লিভার ফুলে যাওয়া, প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত পড়া এবং এমনকি কিডনি অকেজো হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
শিশুদের ক্ষেত্রে এটি শারীরিক বৃদ্ধি ব্যাহত করতে পারে এবং রক্তশূন্যতা তৈরি করে।
স্নেইল ফিভার থেকে বাঁচতে সচেতনতাই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। নিচের পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করা জরুরি—
১. দূষিত পানি এড়িয়ে চলা: নদী–নালা বা পুকুরের মিষ্টি পানিতে যেখানে এই শামুকের উপস্থিতি আছে, সেখানে গোসল বা কাজ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।২. স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন: খোলা জায়গায় মলত্যাগ বন্ধ করতে হবে, যাতে পরজীবীর ডিম পানিতে মিশতে না পারে।৩. পানি ফুটিয়ে ব্যবহার: পান করা বা ধোয়া-মোছার কাজে নিরাপদ ও ফিল্টার করা পানি ব্যবহার করা উচিত।
এই রোগের চিকিৎসায় প্রাজিকুয়ান্টেল নামের ওষুধটি অত্যন্ত কার্যকর। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময়মতো চিকিৎসা নিলে শরীর থেকে পরজীবী সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব।স্নেইল ফিভার অবহেলার বিষয় নয়। বিশেষ করে যাঁরা কৃষিকাজ বা মাছ ধরার সঙ্গে যুক্ত, তাঁদের ঝুঁকি বেশি। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সচেতনতাই পারে এই নীরব ঘাতক থেকে আমাদের রক্ষা করতে।






