সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় আর আগের মতো নিথর-নিস্তব্ধ থাকবে না বলে ঘোষণা করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে রাজবাড়ী শহরের গোদার বাজার সংলগ্ন পদ্মা নদীতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা জানান।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, দীর্ঘ ২০ বছর রাজবাড়ীর পদ্মা নদীতে কোনো নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়নি। অথচ এই আয়োজনের সাথে সাধারণ মানুষের গভীর আবেগ, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতি মিশে আছে। তিনি আরও বলেন, নৌকা বাইচের পাশাপাশি এখানে মেলাও বসেছে, যেখানে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সের মানুষ অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে অংশগ্রহণ করছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “নৌকা বাইচ বাংলাদেশের সংস্কৃতির অংশ এবং এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে।” এই প্রেক্ষিতে তিনি জানান, এবার সারা দেশে নৌকা বাইচসহ বিভিন্ন লোকজ ও সাংস্কৃতিক আয়োজন ছড়িয়ে দেওয়ার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম তাঁর বক্তব্যে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন সেক্টর পুনর্গঠনের কাজ চলছে।” তিনি আরও জানান, একইভাবে সাংস্কৃতিক অঙ্গনকেও নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দীর্ঘদিন সংস্কৃতি থেকে বঞ্চিত মানুষের কাছে দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুনভাবে ফিরিয়ে দিতে কাজ করা হবে।

নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বর্তমানে বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নজরুলের গান, কবিতা ও নাটকসহ তার সৃষ্টিকর্ম নিয়ে নানা আয়োজন করা হচ্ছে।” এছাড়া আগামী শীত মৌসুমে বড় পরিসরে সাংস্কৃতিক উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। সেই উৎসবে ঘোড়দৌড়, পিঠা উৎসব, ঘুড়ি ওড়ানো, লাঠিখেলা ও হাডুডুসহ বিভিন্ন লোকজ আয়োজন অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে তিনি জানান।

তরুণ প্রজন্মকে মাদক এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, “তরুণদের বিপথ থেকে ফেরাতে তাদের খেলাধুলা, পড়াশোনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে।” তাঁর মতে, নৌকা বাইচের মতো আয়োজন মানুষের মনে আনন্দের সঞ্চার করার পাশাপাশি সামাজিক বন্ধনকেও আরও দৃঢ় করে।

এদিকে, নৌকা বাইচের উদ্বোধনী দিনে পদ্মা নদীর দুই পাড়ে হাজার হাজার দর্শনার্থীর উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। বইঠার ছন্দে দ্রুত গতিতে নৌকার ছুটে চলা এবং মাঝি-মাল্লাদের জারি-সারি গানে মুখরিত হয়ে ওঠে নদীর তীর। দর্শনার্থীরা হাততালি ও উচ্ছ্বাসের মাধ্যমে প্রতিযোগীদের উৎসাহিত করেন।

নৌকা বাইচ কেন্দ্র করে নদীর তীরে বিভিন্ন ধরনের দোকান ও খাবারের স্টল বসেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীদের পদচারণায় পুরো এলাকাটি যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

আয়োজক কমিটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় প্রায় ২৪টি নৌকার নিবন্ধন হয়েছে। উদ্বোধনী দিনে ৮ থেকে ১০টি নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। আগামী দুই দিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা চলবে।