পদ্মা নদীর প্রবল স্রোতের মুখে আবারও অচল হয়ে পড়েছে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া ও পাবনার নাজিরগঞ্জ নৌরুটের ফেরি চলাচল। তীব্র স্রোতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে এই রুটে ফেরি চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
ঘাট কর্তৃপক্ষের দাবি, নদীতে স্রোতের তীব্রতা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চালানো এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তারা জানিয়েছে।
তবে এই সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কারণ থাকতে পারে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, এই নৌরুটে দীর্ঘকাল ধরে পর্যাপ্ত ফেরির সংকট রয়েছে। বর্তমানে নিম্নমানের মাত্র একটি ফেরি দিয়ে কোনোমতে যানবাহন পারাপার করা হচ্ছিল। এর আগে পদ্মার তীব্র স্রোতের কারণে টানা ১৬ দিন এই রুটটি বন্ধ ছিল। গত ২২ সেপ্টেম্বর ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হলেও মাত্র কয়েক দিনের মাথায় আবারও তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আজমুল মন্ডল বলেন, “নদী উত্তাল থাকায় ফেরি পারাপারে সময় বেশি লাগে এবং জ্বালানি খরচও বাড়ে। তবে পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার অজুহাতে ফেরি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে চলাচল বন্ধ রাখছে।”
অন্যদিকে, স্থানীয় হকার উম্বার আলী মনে করেন, স্রোত থাকলেও অন্যান্য নৌযান স্বাভাবিকভাবে চলাচল করছে। তিনি বলেন, “কয়েকদিন ফেরি বেশ ভালোভাবেই চলেছে। নদীতে স্রোত থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য নৌযান স্বাভাবিকভাবেই চলাচল করছে, কেবল ফেরিই বন্ধ। স্রোতের পাশাপাশি অন্য কোনো অজ্ঞাত কারণে ফেরি বন্ধ রাখা হয়ে থাকতে পারে।”
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা থেকে তীব্র স্রোতের কারণে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। টানা ১৬ দিন বন্ধ থাকার পর গত ২২ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টা থেকে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। দীর্ঘ সময় ফেরি বন্ধ থাকায় রাজবাড়ী ও পাবনার মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রী এবং যানবাহন চালকদের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যার ফলে তাদের সময় ও অর্থ—উভয়ই ব্যয় বাড়ছে।
ধাওয়াপাড়া ফেরিঘাটের সহকারী ব্যবস্থাপক রবিউল ইসলাম পুনরায় জানান, “পদ্মা নদীতে তীব্র স্রোতের কারণেই সোমবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিট থেকে ধাওয়াপাড়া-নাজিরগঞ্জ ঘাটে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে।”