রাজবাড়ীর কালুখালীর মহেন্দ্রপুরে পদ্মার বুকে সারি সারি নৌকার প্রতিযোগিতা আর মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টানে মুখরিত হয়ে উঠেছে নদীর তীর। তিন দিনব্যাপী এই ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।
দুপুরের পর থেকেই মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাট সংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন বয়সী মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে আসা দর্শকদের ভিড়ে নদীর পাড় ছাড়িয়ে আশপাশের সড়ক ও খোলা জায়গাগুলোও পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী নৌকাগুলো যখন তীব্র গতিতে এগিয়ে যাচ্ছিল, তখন তীরে দাঁড়িয়ে থাকা দর্শকেরা করতালি ও শ্লোগানের মাধ্যমে মাঝিদের উৎসাহিত করেন।
নৌকাবাইচের পাশাপাশি নদীর তীরে আয়োজিত হয় একটি গ্রামীণ মেলা। দেশীয় খাবার, খেলনা ও নানাবিধ সামগ্রীর পসরা সাজানো এই মেলায় শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
কালুখালী উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতার সঞ্চালনা করেন মেহেদী হাসান তোতা ও মো. জামাল খান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, পাংশা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. বাহারাম হোসেন সরদার, কালুখালী উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. লুৎফর রহমান খান, রাজবাড়ী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব তুহিনুর রহমান তুহিন এবং কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রকিবুল হাসান রুমা। এছাড়া স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকদের মতে, এই নৌকাবাইচ কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি গ্রামবাংলার দীর্ঘদিনের লোকজ সংস্কৃতি ও মানুষের মিলনমেলার অংশ। আবহমান ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করাই ছিল এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
তিন দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার শেষ দিনে পাবনার সৈয়দপুরের ‘নিউ শাপলা’ নৌকা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মধ্য দিয়ে পুরো আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে। তবে উৎসবের সেই আমেজ দীর্ঘক্ষণ ধরে দর্শকদের মনে গেঁথে ছিল।