মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে পদ্মা নদীতে ধরা পড়া একটি বিশালাকার পাঙাশ মাছ প্রায় ৫০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে মাছটি নিলামে ওঠে। মাছটির ওজন ছিল ২১ কেজি ৬০০ গ্রাম এবং চূড়ান্তভাবে এটি ৪৯ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়।
একই বাজারে আজ বৃহস্পতিবার সকালে দুটি বিরল প্রজাতির বাগাড় মাছও বিক্রি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, বাগাড় দুটি মোট ৪২ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গতকাল বুধবার মধ্যরাত থেকে মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে সন্ধ্যার পর পদ্মার মোহনায় সহযোগীদের সাথে জাল ফেলেন মানিকগঞ্জের জাফরগঞ্জ এলাকার জেলে সুরেশ হালদার। ভাটিতে ভেসে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর জালে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি অনুভব করেন তাঁরা। তখনই তাঁরা বুঝতে পারেন যে জালে বড় কোনো মাছ আটকা পড়েছে। জাল টেনে নৌকায় তুলে দেখার পর দেখা যায়, সেটি একটি বিশাল পাঙাশ মাছ।
গতকাল রাতেই মাছটিকে দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে রেজাউল মণ্ডলের আড়তে নিয়ে আসা হয়। সেখানে নিলামের মাধ্যমে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দৌলতদিয়ার ৫ নম্বর ফেরিঘাট এলাকার বাসিন্দা ও মাছ ব্যবসায়ী চাঁদু মোল্লা পাঙাশ মাছটি কিনে নেন।
এই বিষয়ে চাঁদু মোল্লা বলেন, “রাত ১০টার দিকে তিনি নিলামে অংশ নেন। কেজিপ্রতি ২ হাজার ২০০ টাকা দরে মাছটি কেনেন ৪৭ হাজার ৫০০ টাকায়।” তিনি আরও জানান, ওই রাতেই ঢাকার আশুলিয়ার এক পরিচিত ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে কেজিপ্রতি ১০০ টাকা লাভে ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে ৪৯ হাজার ৬০০ টাকায় মাছটি বিক্রি করেন। আজ সকালেই ক্রেতার ঠিকানায় মাছটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, আজ সকালে অন্যান্য মাছের সাথে রেজাউল মণ্ডলের আড়তে দুটি বাগাড় মাছও নিলামে ওঠে। স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে প্রায় ১৫ কেজি ও ১৩ কেজি ওজনের মাছ দুটি কেনেন। কেনার পর তিনি মাছ দুটিকে ফেরিঘাটের পন্টুনের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে রাখেন।
শাহজাহান শেখ জানান, “১৫ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে ২১ হাজার টাকায় এবং ১৩ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৩৫০ টাকা দরে ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় কেনেন।” এরপর সকালেই তিনি শ্রীলঙ্কাপ্রবাসী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা জহির উদ্দিনের সাথে মুঠোফোনে দরদাম করে মাছ দুটি বিক্রি করেন।
শাহজাহান শেখ ১৫ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে ২৪ হাজার টাকায় এবং ১৩ কেজির বাগাড়টি কেজিপ্রতি ১ হাজার ৪০০ টাকা দরে ১৮ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি করেছেন। ক্রেতাদের দেওয়া ঠিকানায় সকালেই মাছ দুটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।