রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের নিকটবর্তী পদ্মা নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে দুটি বিশালাকার কাতলা এবং একটি মহাবিপন্ন প্রজাতির বাগাড় মাছ। ধরা পড়া মাছ তিনটির সম্মিলিত ওজন প্রায় ৭২ কেজি। পরবর্তীতে দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারের একটি আড়তে উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে মাছ তিনটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
আজ সোমবার ভোরের দিকে এই মাছগুলো ধরা পড়ে। এরপর দৌলতদিয়া ঘাটের শিপন মণ্ডলের মৎস্য আড়তে নিলামের মাধ্যমে মাছ তিনটি ক্রয় করেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ। আজ সোমবার সকালে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাট বাজারে মাছ ব্যবসায়ীদের হাতে দুটি বড় কাতলা দেখা যায়।
স্থানীয় মৎস্যজীবী ও ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা গেছে, আজ ভোররাতে স্থানীয় জেলে সেকেন সরদার তাঁর দলবল নিয়ে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যান। নদীতে জাল ফেলার কিছু সময় পর তা টেনে তুলতেই দুটি কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ দেখতে পান তাঁরা। এরপর মাছগুলো দৌলতদিয়া ঘাট মাছবাজারের শিপন মণ্ডলের আড়তে নিয়ে ওজন করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একটি কাতলার ওজন ২৫ কেজি এবং অন্যটির ওজন প্রায় ২২ কেজি।
অন্যদিকে, জেলে অসেল সরদারের জালেও আজ ভোরে একটি নিষিদ্ধ ও মহাবিপন্ন বাগাড় মাছ ধরা পড়ে। এটিও শিপন মণ্ডলের আড়তে নিয়ে ওজন করা হলে দেখা যায় মাছটির ওজন ২৫ কেজি।
উন্মুক্ত নিলামের প্রক্রিয়ায় ২৫ কেজি ওজনের কাতলাটি প্রতি কেজি ২ হাজার ৩০০ টাকা দরে ৫৭ হাজার ৫০০ টাকায় এবং ২২ কেজি ওজনের কাতলাটি একই দরে ৫০ হাজার ৬০০ টাকায় কেনেন ব্যবসায়ী শাহজাহান শেখ। দুটি কাতলা কিনতে তাঁর মোট খরচ হয় প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ১০০ টাকা।
পাশাপাশি, ২৫ কেজি ওজনের নিষিদ্ধ মহাবিপন্ন বাগাড় মাছটিও নিলামে প্রতি কেজি ১ হাজার ৬০০ টাকা দরে ৪০ হাজার টাকায় কেনেন শাহজাহান শেখ। সব মিলিয়ে মাছ তিনটি কিনতে তাঁর মোট ব্যয় হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ১০০ টাকা। পরবর্তীতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তিনি মাছ তিনটি সিলেটের একজন ইতালিপ্রবাসীর কাছে বিক্রি করেন।
এই বিষয়ে শাহজাহান শেখের ভাষ্য, “দুটি কাতলা প্রতি কেজি ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫০০ টাকায় এবং বাগাড়টি প্রতি কেজি ১ হাজার ৭০০ টাকা দরে ৪২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করেছেন।” তাঁর দাবি অনুযায়ী, সব মিলিয়ে মাছ তিনটি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (আইইউসিএন) তালিকায় বাগাড় মাছ মহাবিপন্ন প্রাণী হিসেবে চিহ্নিত। বন্য প্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী, বাগাড় শিকার করা, ধরা বা বিক্রি করা দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে আইন উপেক্ষা করে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় প্রায়ই প্রকাশ্যে বাগাড় শিকার এবং নিলামে বিক্রির ঘটনা ঘটছে।