চট্টগ্রামের আনোয়ারায় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে মৃত শিশুর লাশ নিয়ে দীর্ঘ ১৮ ঘণ্টা ওই হাসপাতালে অবস্থান করেন স্বজনেরা। গতকাল বুধবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকার সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নামের প্রতিষ্ঠানটিতে এই ঘটনাটি ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল চারটা পর্যন্ত লাশ নিয়ে অবস্থান করার পর স্বজনেরা শিশুটির মরদেহ নিয়ে বাড়ি ফিরে যান।
নিহত শিশুটির নাম মো. আয়ান, বয়স ৮ বছর। সে উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গুন্ধীপপাড়া এলাকার ছাদেক আলী তালুকদারের বাড়ির সন্তান। তার মায়ের নাম কুমকুম আকতার, যিনি পেশায় একজন পোশাক শ্রমিক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বুধবার বিকেলে একটি প্রাইভেট কারের ধাক্কায় গুরুতর আহত হয় আয়ান। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানিয়েছিলেন যে, শিশুটির পায়ে আঘাত লেগেছে এবং তা দ্রুত সেরে যাবে। তবে বাড়ি ফেরার পর রাত ৯টার দিকে আয়ানের শারীরিক অবস্থার আকস্মিক অবনতি ঘটে। তাকে পুনরায় সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আয়ানের মৃত্যুর পর স্বজনরা হাসপাতালের চিকিৎসায় গাফিলতি ও ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তোলেন। ক্ষুব্ধ স্বজনেরা শিশুটির মরদেহ নিয়ে হাসপাতালের সামনে অবস্থান নেন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা দেড়টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বাইরের একটি অ্যাম্বুলেন্সে আয়ানের মরদেহ নিয়ে বসে আছেন তার নানি কুলসুমা বেগম এবং মামা মো. মিজান। তবে সে সময় হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং হাসপাতালের মূল ফটকে তালা ঝুলতে দেখা যায়। হাসপাতালের ফার্মেসিতে একজন কর্মচারী পাওয়া গেলেও তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে রাজি হন না।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত নিহত আয়ানের নানি কুলসুমা বেগম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের কর্মচারী দিয়ে চিকিৎসা দিয়ে আমাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বারবার বলার পরও হাসপাতালের চিকিৎসক কোনো গুরুত্ব দেয়নি। এ হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা উঠব না।’
অন্যদিকে, শিশুর স্বজনদের আনা এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান। তার দাবি, ওই রোগী হাসপাতালে মারা যাননি, বরং ঘরে মারা যাওয়ার পর মরদেহটি হাসপাতালে আনা হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, এরপর ‘মব’ করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে এবং চিকিৎসক ও কর্মচারীদের অবরুদ্ধ করে লোকজন তালা লাগিয়ে দিয়েছে, যার ফলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে আছে।
এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ‘বিস্তারিত জেনে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’