চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অণ্ডকোষ কেটে এবং হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে দুটি মহিষকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার ভোরে উপজেলার বরুমচড়া ইউনিয়নের ভরাচর সংলগ্ন পঙ্খীরচর এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মহিষ দুটির মালিক বরুমচড়া ইউনিয়নের ভরাচর এলাকার বাসিন্দা শফিউল আজম। তিনি অত্যন্ত শোকাহত হয়ে জানান, কারা এবং কেন তাঁর দুটি মহিষকে এমন নৃশংস কায়দায় হত্যা করেছে, সে বিষয়ে তাঁর কোনো ধারণা নেই। প্রাণীদের প্রতি এমন চরম নিষ্ঠুরতায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঙ্খীরচর এলাকাটি শঙ্খ নদের মাঝখানে একটি দ্বীপের মতো। এই দ্বীপে আনোয়ারা উপজেলার বরুমচড়া ও জুঁইদণ্ডী ইউনিয়নের বাসিন্দারা সাধারণত মাছ চাষ এবং মহিষ পালনের কাজ করে থাকেন। গতকাল শনিবার রাতে শফিউল আজম তাঁর মহিষগুলোকে ওই দ্বীপে বেঁধে রেখে ভরাচর গ্রামে ফিরে আসেন। এরপর আজ ভোরে তিনি পুনরায় ওই চরে গিয়ে দেখেন যে, তাঁর প্রিয় মহিষ দুটি মৃত অবস্থায় পড়ে আছে।

শফিউল আজম আক্ষেপ করে বলেন, মহিষ দুটির বাজারমূল্য প্রায় তিন লাখ টাকা। তবে তিনি মনে করেন, কেবল আর্থিক ক্ষতিই বড় কথা নয়, মহিষগুলো তাঁর কাছে অত্যন্ত যত্ন ও আদরের ছিল। এমন অবলা প্রাণীকে কেন কেউ এভাবে হত্যা করবে, তা তাঁর মাথায় ঢুকছে না। ঘটনার খবর পাওয়ার পর আজ বিকেল পাঁচটার দিকে আনোয়ারা থানার পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

শফিউল আজমের ছেলে নাজিম উদ্দীন ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘সকালে গিয়ে আমি ও আমার আব্বা দুটি মহিষ মরা দেখতে পাই। মরা মহিষগুলোর অণ্ডকোষ কাটা ও মুখ থেঁতলানো ছিল। সম্ভবত মুখে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়।’

এ বিষয়ে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, ‘ঘটনার খবর পেয়ে আমাদের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’