কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবা পাচারের অভিযোগে দুই শিশুসহ এক নারীকে আটক করেছে র্যাব। গতকাল রোববার আনোয়ারার সরকারহাট এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর পেট থেকে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা বের করা হয়েছে।
র্যাব-৭ চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পের লে. কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম জানান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে একটি মাদক চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি চালিয়ে আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। সেখানে একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে চকরিয়া নিবাসী শারমিন আক্তার নামের এক নারীকে আটক করা হয়। তাঁর সঙ্গে থাকা দুই শিশুর বয়স যথাক্রমে ৯ ও ১২ বছর।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন স্বীকার করেন যে, শিশুদের পেটে ইয়াবা ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছে। পরে দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক্স-রে পরীক্ষায় চিকিৎসকরা তাদের পেটে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হন। এরপর মলত্যাগের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা ছিল বলে র্যাব জানিয়েছে।
র্যাব কর্মকর্তা বলেন, দুই শিশুর বাড়ি বান্দরবানের আলীকদমে। পরিবারের খরচ মেটাতে দেওয়ার পাশাপাশি আট হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চক্রটি তাদের মাদক পাচারে ব্যবহার করে। কারও সন্দেহ না হওয়ার জন্য শিশুদের সঙ্গে শারমিন আক্তারকে রাখা হয়েছিল।
চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, পেটের ভেতরে ইয়াবা থাকায় দুই শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। এভাবে মাদক বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শিশুদের যাতে মাদক পাচারে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি.