চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারকৃত দুই শিশুর পেট থেকে এক্স-রে ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে মোট ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। কক্সবাজারের উখিয়া থেকে কেনো এই মাদক দ্রব্য শিশুদের পেটে করে চট্টগ্রামে পাচার করা হচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন গ্রেপ্তারকৃত আসামি।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাতে আনোয়ারা থানার সরকার হাটের তৈলারদ্বীপ সেতুসংলগ্ন এলাকায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় চকরিয়ার বাসিন্দা শারমিন আকতার ওরফে ইসমত আরাকে (৪০) আটক এবং ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ইসমত আরা স্বীকার করেন যে শিশুদের পেটের ভেতর বিশেষ কৌশলে ইয়াবা বহন করা হচ্ছে।
এরপর ৬ সেপ্টেম্বর রাতে শিশুদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করালে তাদের পেটে পোটলা সদৃশ বস্তুর উপস্থিতি নিশ্চিত হয়। পরবর্তীতে ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে মলত্যাগের মাধ্যমে ৯ বছরের শিশুর পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছরের শিশুর পেট থেকে ৬৬টি স্কচটেপে মোড়ানো পোটলা বের করা হয়। এসব পোটলা থেকে মোট ৬,৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।
গ্রেপ্তারকৃত ইসমত আরার বরাতে র্যাব জানায়, কক্সবাজারের উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে তা কৌশলে শিশুদের দিয়ে গিলিয়ে চট্টগ্রামে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল। এর আগেও অন্তত দুইবার একই কায়দায় এই শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচার করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেছেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি, দুই শিশু ও উদ্ধারকৃত মাদকের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে র্যাব।