চট্টগ্রামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত তানভীরুল ইসলাম (২৬) নামে এক যুবক বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। নিহত তানভীরুল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সদস্য ছিলেন। শরীরের বুলেটের ক্ষত এবং দীর্ঘস্থায়ী অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণার কারণে হতাশাগ্রস্ত হয়ে তিনি এই চরম সিদ্ধান্ত নিতে পারেন বলে ধারণা করছেন তার সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত তানভীরুল ইসলাম কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার হিলপাড়া গ্রামের মো. আবু ইউসুফ ও তাসলিমা বেগম দম্পতির সন্তান। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজিদ থানাধীন টেক্সটাইল এলাকার জামাল উদ্দিনের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত তানভীরুল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বায়েজিদ থানার যুগ্ম সদস্য সচিব এবং চট্টগ্রাম মহানগর আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বায়েজিদ থানাধীন টেক্সটাইল এলাকার ভাড়া বাসায় অবস্থানকালে তানভীরুল ইসলাম বিষপান করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এই মর্মান্তিক ঘটনা প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব আরিফ মইনুদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হয়েছিলেন তানভীর। তার কোমরের একপাশ দিয়ে বুলেট ঢুকে অন্য পাশ দিয়ে বের হয়ে গিয়েছিল। তিনি একজন তালিকাভুক্ত আহত জুলাইযোদ্ধা ছিলেন। শরীরের সেই ক্ষত নিয়ে তিনি প্রায় সময়ই কষ্ট পেতেন এবং সেখানে ইনফেকশন হতো। এ জন্য তাকে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হতো।”

তিনি আরও আক্ষেপ করে বলেন, “তীব্র ব্যথায় তিনি প্রায় সময়ই খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটতেন এবং কান্নাকাটি করতেন। সেই অন্তহীন ও অসহ্য শারীরিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরেই তানভীর ‘আত্মহত্যার’ পথ বেছে নিয়েছেন।”

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চমেক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ নূরুল আলম আশেক জানান, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।