ঝিনাইদহ শহরের জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্কে এক জমকালো আয়োজনে সংবর্ধিত হলো এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন সানজিদা সুলতানা জুঁই।

শৈলকুপা উপজেলার সীমান্তবর্তী আবাইপুর গ্রাম থেকে ঝিনাইদহ শহরের দূরত্ব প্রায় ৪০ কিলোমিটার। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই গ্রামে সানজিদার বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত ভালো শিক্ষকের অভাব ছিল। তবে প্রতিকূলতাকে জয় করে সানজিদা দমে যাননি। মুঠোফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে নোট সংগ্রহ করে পড়াশোনা চালিয়ে যান তিনি। তার এই কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ রামসুন্দর মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে সানজিদা এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

শিক্ষার ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’-র পৃষ্ঠপোষকতায় এবং মুক্তকণ্ঠের আয়োজনে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের জন্য নিবন্ধন করেছিলেন সানজিদা। আজ বৃহস্পতিবার যখন তাকে সংবর্ধনা মঞ্চে ডাকা হয়, তখন উচ্ছ্বাসের সাথে দৌড়ে আসেন তিনি। মঞ্চে দাঁড়িয়ে সানজিদা বলেন, ‘এই মঞ্চে আসার স্বপ্ন ছিল অনেক আগ থেকেই। পত্রিকায় সংবর্ধনার অনুষ্ঠান দেখে মনে হতো আমি ওখানে যেতে পারব। আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’

‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগানকে সামনে রেখে সারা দেশের ৬৪টি জেলায় ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের এই সংবর্ধনা প্রদান করা হচ্ছে। এই আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা–গ্রী, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা।

ঝিনাইদহ পর্বের এই অনুষ্ঠানে সকাল ৯টা থেকেই শিক্ষার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করে। অনেক শিক্ষার্থী তাদের অভিভাবকদের সাথে নিয়ে উপস্থিত হন। মাত্র আধা ঘণ্টার মধ্যেই পুরো অনুষ্ঠানস্থল শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। মূল অনুষ্ঠানের আগে শিক্ষার্থীদের হাতে উপহারসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।

সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। জেলা বন্ধুসভার সদস্য সুস্মিতা তাবাসসুমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তকণ্ঠের ঝিনাইদহ নিজস্ব প্রতিবেদক আজাদ রহমান। তিনি অনুষ্ঠানে মুক্তকণ্ঠ সম্পাদক মতিউর রহমানের লেখা একটি চিঠি পাঠ করে শোনান।

উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শহীদ নূর আলী কলেজের অধ্যক্ষ রাশেদ সাত্তার তরু বলেন, “১০ বছর কঠোর পরিশ্রম করে তোমরা আজকের এই স্থানে এসেছো। তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। আর এ জন্য পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে।”

মুক্তকণ্ঠের বিশেষ প্রতিনিধি শিশির মোড়ল শিক্ষার্থীদের সতর্ক করে বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থী প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি মুঠোফোনের সঙ্গে থাকলে তার ভালো ফল করা কষ্ট। সেই কারণে মুঠোফোন থেকে তোমাদের দূরে থাকতে হবে। একই সঙ্গে সবাইকে মাদক থেকে দূরে থাকতে হবে।’

জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জুয়েল রানা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন যে, এই সাফল্যই শেষ কথা নয়। এরপরও অনেকের পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি আরও বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি ভালো মানুষ হতে হবে।

জোহান ড্রিম ভ্যালি পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোয়াজ্জেম হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এই বয়সে অনেকে খারাপ পথে পা দিয়ে ফেলে। এই সময়টা নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে আগামী দিনে তোমার জন্য অনেক ভালো কিছু অপেক্ষা করছে।’

অনুষ্ঠানের সাংস্কৃতিক পর্বে ঢাকা থেকে আসা জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মিঠুন রায় তার গান গেয়ে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন।