সন্তান জন্মদানের কঠিন সময়েও পড়াশোনার হাল ছাড়েননি তাসনিয়া আরেফীন। সেই লড়াই আর ত্যাগের ফসল আজ সুবাইয়া সাদনিন। মেয়ের সাফল্যের স্বীকৃতি দেখে আনন্দিত ও আপ্লুত এই মা। আজ মঙ্গলবার কুষ্টিয়া জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত 'শিখো-মুক্তকণ্ঠ জিপিএ-৫ কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা' অনুষ্ঠানে অংশ নেন তাসনিয়া আরেফীন ও তাঁর মেধাবী কন্যা সুবাইয়া।
অনুষ্ঠানে এসে তাসনিয়া আরেফীন জানান, মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ঝিনাইদহের শৈলকুপা শহর থেকে ভোর পাঁচটায় রওনা হয়ে তিনি কুষ্টিয়ায় এসেছেন। নিজের জীবনসংগ্রামের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘জীবনে অনেক কষ্ট করেছি। নিজে পড়াশোনা করে চাকরি করেছিলাম। মেয়ে জন্মের সময়ও পড়াশোনা করেছি। এখন মেয়ে পড়ছে। মেয়ে তার পড়াশোনার অর্জনের স্বীকৃতি পাচ্ছে, এতেই অনেক খুশি।’
সুবাইয়া সাদনিন এ বছর শৈলকুপা পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি শৈলকুপা সরকারি ডিগ্রি কলেজে ভর্তি হয়েছেন। তাসনিয়া আরেফীন জানান, তিনি তাঁর মেয়েকে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হিসেবে দেখতে চান।
কৃতী শিক্ষার্থীদের প্রবল উৎসাহে মূল অনুষ্ঠান শুরুর এক ঘণ্টা আগেই জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তন মুখর হয়ে ওঠে। প্রায় ১ হাজার ১০০ জন কৃতী শিক্ষার্থী সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। মিলনায়তনের আসন সংখ্যা ৬০০ হলেও বাকি শিক্ষার্থীরা সিঁড়ি ও সামনের খোলা জায়গায় বসে অনুষ্ঠান উপভোগ করেন। পুরো আয়োজন জুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।
মুক্তকণ্ঠের আয়োজনে এবং ডিজিটাল লার্নিং প্ল্যাটফর্ম ‘শিখো’র পৃষ্ঠপোষকতায় এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘স্বপ্ন দেখো জীবন গড়ো’ স্লোগান নিয়ে ২০২৬ সালে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের ৬৪টি জেলায় এই সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে।
এই আয়োজনে পাওয়ার্ড বাই বিকাশ এবং সহযোগিতায় রয়েছে কনকর্ড গ্রুপ, ফ্রেশ, সেভয় আইসক্রিম, কনকা-গ্রি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কোয়ালিটি গ্রুপ, প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি, জিংক বি, অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ইউসিএসআই ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ শাখা ক্যাম্পাস, আম্বার আইটি লিমিটেড, এটিএন বাংলা ও মুক্তকণ্ঠ বন্ধুসভা।
সকাল ১০টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে কুষ্টিয়া পর্বের মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। বন্ধুসভার সদস্য এথেনা আশরাফ আরোবীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন মুক্তকণ্ঠের কুষ্টিয়া নিজস্ব প্রতিবেদক তৌহিদী হাসান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল লতিফ বলেন, ‘আগামী দিনে উচ্চমাধ্যমিকে যারা জিপিএ-৫ পাবে, তাদের জন্য কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ থেকে পুরস্কার দেওয়ার আয়োজন থাকবে। তাই তোমরা ভালো করে পড়ালেখা করবে। আরও উচ্চপর্যায়ে গিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেবে।’
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক আকলিমা খাতুন ইরা বলেন, ‘আজকে তোমরা যারা এখানে উপস্থিত হয়েছো, তারা সবাই মেধাবী মুখ। তোমরাই একদিন দেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমরা ভালো মানুষ হও আগে, এগিয়ে যাও সেই প্রত্যাশা করি।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত কৃতী শিক্ষার্থীদের সব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জয় ছিনিয়ে আনার আহ্বান জানান মুক্তকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ। এরপর কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ১০ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে পুরস্কার হিসেবে কিশোর আলো ও বিজ্ঞানচিন্তা ম্যাগাজিন প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে চারজন কৃতী শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সাংস্কৃতিক পর্বে গান পরিবেশন করেন আযহা সবুর সূর্বণা, উম্মে মরিয়াম পাপড়ী, অনুপূর্বা চক্রবর্তী, অপ্রারৃতি এবং ওয়াসিকা রহমান আইফা। ছামিয়া তাছনীম ‘বিদ্রোহী’ কবিতা আবৃত্তি করেন। অনুষ্ঠানের শেষ আধা ঘণ্টায় শিল্পী মিঠুন রায়ের জনপ্রিয় গানে মেতে ওঠে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।