সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পেছনে সব সময় বড় কোনো ঝগড়া, বিশ্বাসভঙ্গ কিংবা নাটকীয় কোনো ঘটনার হাত থাকে না। অনেক ক্ষেত্রে সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব তৈরি হয় অত্যন্ত নীরবে, নিজেদের অজান্তেই। দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি পাশাপাশি থাকছেন, নিয়ম মেনে কথা বলছেন, এমনকি একে অপরকে ‘ভালোবাসি’ও বলছেন—কিন্তু ভেতরে-ভেতরে সবার অগোচরে একজন ধীরে ধীরে সেই সম্পর্কটি থেকে দূরে সরে যেতে থাকেন। বাইরে থেকে এই পরিবর্তনের কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। তবে মনোবিজ্ঞানের ভাষায়, সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ ও আবেগ কমে গেলে মানুষের আচরণে কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। সেই লক্ষণগুলো নিচে আলোচনা করা হলো।

প্রথমত, হঠাৎ করেই কাজের চাপ বেড়ে যায়। সঙ্গী ঘরে ফিরলে নানা ধরনের ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কথা বলে নিজেকে সরিয়ে নেন অনেকে। একা থাকা কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর নানা অজুহাত তৈরি হয়। আবার অবসর পেলেই ফোনের স্ক্রিনে ডুবে থাকতে শুরু করেন কেউ। সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর চেয়ে একা থাকা বা অন্যদের সঙ্গে সময় কাটানো তখন বেশি স্বস্তিদায়ক মনে হতে পারে।

দ্বিতীয়ত, কথা বলার আগ্রহ কমে যাওয়া। একসময় দিনের ছোট ছোট ঘটনাগুলোও সঙ্গীর সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া হতো—কে কী বলল, কী দেখে হাসি পেল, অফিসে কী ঘটল কিংবা ঘরের কোনো সাধারণ বিষয়। কিন্তু এখন সেই তাগিদটি আর থাকে না। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তো দূরের কথা, দৈনন্দিন জীবনের ছোট আনন্দ, বিরক্তি কিংবা ভাবনাগুলোও আর ভাগ করে নিতে ইচ্ছা করে না। তখন ‘যতটা সম্ভব কম কথোপকথন’—এই বিষয়টিই হয়ে ওঠে মূল নীতি। এই নীরবতা অনেক সময় গভীর আবেগগত দূরত্বের ইঙ্গিত দেয়।

তৃতীয়ত, বাইরের জীবনের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি। বন্ধু-বান্ধব, শখ কিংবা ব্যক্তিগত সময় কাটানো সুস্থ সম্পর্কেরই অংশ। তবে সম্পর্কে সুখ না থাকলে বাইরের জীবন বা একাকী জীবনটাই ব্যক্তিগত বা দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে পালানোর প্রধান উপায় হয়ে ওঠে। অনেকে ইচ্ছা করেই এমন পরিকল্পনা করতে শুরু করেন, যেখানে সঙ্গীকে ছাড়াই দীর্ঘ সময় কাটানো যায়। কারণ, সেই সময়টুকু হয়তো তাঁকে মানসিক স্বস্তি দেয়।

চতুর্থত, তর্কের অনুপস্থিতি। এটি সম্পর্কের অবনতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণগুলোর একটি। আগে কোনো আচরণে কষ্ট পেলে মানুষ কথা বলতেন, বোঝানোর চেষ্টা করতেন, এমনকি তর্কও করতেন। কিন্তু এখন তারা শুধু বলেন, ‘ঠিক আছে’, ‘যা ইচ্ছা করো’। বাইরে থেকে মনে হতে পারে যে ঝগড়া বা ঝামেলা কমেছে, অথচ ভেতরে হয়তো তৈরি হয়েছে ভীষণ ক্লান্তি। কথা বলে আর কিছু বদলানো সম্ভব হবে না—এমন এক বিশ্বাস তৈরি হয়ে যায় মনে।

পঞ্চমত, একাকী জীবনের কল্পনা। নিজের মতো করে থাকা, অন্য কোথাও চলে যাওয়া, একা ভ্রমণ করা কিংবা সম্পূর্ণ নতুনভাবে জীবন সাজানোর চিন্তা বারবার মনে আসতে পারে। মাঝেমধ্যে এমন কল্পনা করা স্বাভাবিক। কিন্তু যখন কল্পনার সেই একাকী জীবনটাই বর্তমান সম্পর্কের চেয়ে বেশি আনন্দের ও স্বস্তির বলে মনে হতে শুরু করে, তখন নিজেকেই প্রশ্ন করার সময় এসেছে—আদতে সম্পর্কের মাঝে কী বদলে গেছে?

সূত্র: ব্রাইডস ও কসমোপলিটান