সংগীতশিল্পী ও অভিনেতা প্রীতম হাসান এবং মডেল, অভিনেত্রী ও গায়িকা শেহতাজ মনিরা হাশেমের দাম্পত্য জীবনের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের কিছু পার্থক্যের কারণে আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এই তারকা জুটি। গত ৪ অক্টোবর রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পৃথক দুটি পোস্টের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তাঁদের এই বিচ্ছেদের খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রশ্ন জাগে, তারকাদের ব্যক্তিগত জীবনের এমন বিচ্ছেদে সাধারণ মানুষ কেন এত কষ্ট পায়? এই মনস্তাত্ত্বিক দিকটি নিয়ে ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির মনোচিকিৎসক ক্যাথেরিন শ্যাফলার ‘টাইম ম্যাগাজিন’–এ একটি বিশ্লেষণধর্মী লেখা লিখেছিলেন। সেই লেখাটির ভাবানুবাদ নিচে তুলে ধরা হলো:

“রায়ান গসলিং ও র‍্যাচেল ম্যাকঅ্যাডামসের আর কখনো এক না হওয়াটা এখনো মেনে নিতে পারছি না। বিশেষ করে বৃষ্টির মধ্যে যদি তাঁদের আবার এক হওয়ার দৃশ্য দেখা যেত!

আবার ব্র্যাড পিট ও জেনিফার অ্যানিস্টনের বিচ্ছেদের ঘোষণার আগের দিন সমুদ্রসৈকতে ব্র্যাডের পরা সেই বিদঘুটে টি-শার্টের কথাও মনে আছে।

বাস্তব জীবনের এমন কিছু দম্পতিও আছেন, যাঁদের বিচ্ছেদের খবর শুনলে হয়তো এক দিনের ছুটি নিয়ে মন খারাপ করে থাকতে হবে।

কিন্তু তাঁদের বিচ্ছেদে আমাদের এত কষ্ট হয় কেন?

কারণটা খুব সহজ। যেসব যুগলকে আমরা একে অপরের জন্য একেবারে আদর্শ বলে মনে করি, তাঁদের দেখে আমাদের মনে হয়, ভালোবাসাই সবকিছু। ভালোবাসা থাকলে সব বাধা পেরোনো সম্ভব—এই বিশ্বাসটুকু আমরা আঁকড়ে থাকতে চাই।

একজন মনোচিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে এবং নিজের জীবন থেকে আমি একটা বিষয় বুঝেছি, ভালোবাসা অবশ্যই সম্পর্কের ভিত্তি। কিন্তু ভালোবাসাই সবকিছু নয়। গভীরে আমরা সবাই তা জানি। তবে বিষয়টা নিয়ে বেশি ভাবতে গেলে মনটা একটু বিষণ্ন হয়ে পড়ে।

সম্পর্কে ভালোবাসা দরকার। পাশাপাশি দরকার এমন একজন মানুষ, যার সঙ্গে খোলামেলা ও কার্যকরভাবে কথা বলা যায়; যাঁর কাছে অঙ্গীকারের অর্থ আমাদের মতোই; যাঁর সঙ্গে আর্থিক বিষয়েও পারস্পরিক স্বচ্ছতা ও আস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। ভালোবাসার ওপর সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি হয় ঠিকই, কিন্তু সেটাকে টিকিয়ে রাখে আরও অনেক স্তম্ভ, যেগুলো হয়তো অতটা রোমান্টিক নয়।

তারকাদের বিচ্ছেদের খবর এলে ভালোবাসা সম্পর্কে এই বাস্তব, কিছুটা অনাকাঙ্ক্ষিত সত্য আবার সামনে চলে আসে।

ভাবুন তো, পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয়, আকর্ষণীয়, ধনী, মেধাবী ও প্রতিভাবান মানুষগুলোরও সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছে! তাঁদেরও কেউ প্রত্যাখ্যান করছেন! তখন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, ‘তাঁরাই যদি সম্পর্কটা সামলাতে না পারেন, তাহলে আমি কীভাবে পারব?’

তাই অ্যাডেলের গান একের পর এক শুনে মন খারাপ করার আগে একটু আশ্বস্ত হোন। ভালোবাসাই সবকিছু নয়, ঠিক; কিন্তু তার মানে এই নয় যে ভালোবাসা দিয়ে শুরু করাটা সুন্দর কিছু নয়।”

সূত্র: টাইম ম্যাগাজিন